গুতেরেসের সঙ্গে শাহবাজের বৈঠক, ভারত–আফগানিস্তান নিয়ে কড়া বার্তা

সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর; আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদ ও উন্নয়নশীল দেশের অর্থায়ন নিয়েও আলোচনা।
বিশ্ব ডেস্ক: জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ। বৈঠকে জাতিসংঘ সংস্কার, বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আইন, শান্তিরক্ষা, আঞ্চলিক সংঘাত, সিন্ধু পানি চুক্তি, আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থায়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গুতেরেস পাকিস্তানের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তিতে দেশটির ভূমিকার প্রশংসা করেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বৈঠকে শাহবাজ শরিফ জাতিসংঘ সনদ, বহুপক্ষীয়তা, আন্তর্জাতিক আইন, সংলাপ এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির প্রতি গুতেরেসের অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় তাঁর অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘ সংস্কারে উন্নয়নশীল দেশের অগ্রাধিকার
শাহবাজ শরিফ জাতিসংঘ মহাসচিবের UN80 Initiative-কে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, জাতিসংঘ সংস্কারের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অগ্রাধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সংঘাত প্রতিরোধ, বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি, শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।
জাতিসংঘের UN80 Initiative-এর লক্ষ্য হচ্ছে সংস্থাটিকে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় আরও কার্যকর, সমন্বিত ও ফলপ্রসূ করে তোলা। ২০২৬ সালে এ উদ্যোগের আওতায় জাতিসংঘের কার্যক্রম ও ম্যান্ডেট আরও কার্যকর করার বিষয়ে সাধারণ পরিষদেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর
বৈঠকে শাহবাজ শরিফ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিরোধ নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধের সমাধান এবং উত্তেজনা এড়াতে সংলাপ ও কূটনীতিই কার্যকর পথ।
সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান
বৈঠকে ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়। শাহবাজ শরিফের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তিটি একটি বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং ভারতের একতরফাভাবে চুক্তিটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
জাতিসংঘের চুক্তি-সংক্রান্ত নথিতে ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তিকে ভারত, পাকিস্তান ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি নিবন্ধিত আন্তর্জাতিক চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামেও চুক্তিটি বহাল থাকার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেছে। তবে এ বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান পরস্পরবিরোধী এবং বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক বিরোধ রয়েছে।
আফগানিস্তান ও সন্ত্রাসবাদ
আফগানিস্তান প্রসঙ্গে শাহবাজ শরিফ বলেন, শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল আফগানিস্তান পাকিস্তানের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে আফগানিস্তানের ভূখণ্ড থেকে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়া এবং দেশটিতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তিনি এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে কার্যকর, বাস্তব ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
জাতিসংঘও গুতেরেসের পাকিস্তান সফরের সময় সন্ত্রাসবাদের হুমকি নিয়ে আলোচনা এবং এ বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে জাতিসংঘের সংহতির কথা জানিয়েছে।
উন্নয়নশীল দেশের অর্থায়নের আহ্বান
বৈঠকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও স্বল্পসুদে অর্থায়ন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শাহবাজ শরিফ। উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে এসব দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা আরও সহজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন জাতিসংঘ সংস্কার, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। ফলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘ মহাসচিবের আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৃহত্তর বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে।







