২১ শতকে শুরু হচ্ছে নতুন তামার যুগ

এআই, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাড়ছে চাহিদা; রাশিয়ার উদোকান ঘিরে চীনের আগ্রহ।
টুইট ডেস্ক: একসময় মানবসভ্যতার ধাতুবিদ্যার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল তামা। একুশ শতকের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতেও সেই তামা আবার কৌশলগত গুরুত্ব ফিরে পাচ্ছে। উচ্চ বৈদ্যুতিক ও তাপ পরিবাহিতা, ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং স্থায়িত্বের কারণে এআই অবকাঠামো, বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে তামার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এ কারণে বর্তমান প্রযুক্তি ও শিল্প বিকাশের পর্যায়কে অনেক বিশ্লেষক ‘নতুন তামার যুগ’ হিসেবে দেখছেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি ভালদাই আলোচনা ক্লাবে বলেছেন, চীনা কোম্পানিগুলো রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় বিনিয়োগকারীদের অন্যতম। তিনি সাইবেরিয়ার একটি তামা প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন। প্রকল্পটির নাম প্রকাশ না করলেও বিশ্লেষকদের ধারণা, তিনি সম্ভবত উদোকান কপার প্রকল্পের কথা বলেছেন।
উদোকান কপার ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি রাশিয়ার ট্রান্স-বাইকাল অঞ্চলের কালার জেলায় অবস্থিত উদোকান তামার খনি উন্নয়ন করছে। এটি দেশটির অন্যতম বৃহৎ তামার মজুদ।
২০২৬ সালের ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামে পুতিন উদোকান মাইনিং অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল কমপ্লেক্সের হাইড্রোমেটালার্জিক্যাল প্ল্যান্ট উদ্বোধন করেন। এর ফলে প্রকল্পটি শুধু তামার কনসেন্ট্রেট উৎপাদনের পরিবর্তে উচ্চ বিশুদ্ধতার ক্যাথোড কপার উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছে।
প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ে বছরে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টন তামা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায় সম্পন্ন হলে উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। সে ক্ষেত্রে উদোকান বিশ্বের উল্লেখযোগ্য তামা উৎপাদনকারী প্রকল্পগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।
এই বিশাল প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়টি এখন আলোচনায় এসেছে। তবে চীনা কোনো প্রতিষ্ঠান উদোকান প্রকল্পে নতুন করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি সম্ভাবনা ও কৌশলগত আগ্রহের পর্যায়েই রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে তামার চাহিদা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ। এআই ডেটা সেন্টার ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো, বৈদ্যুতিক গাড়ি, সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামে বিপুল পরিমাণ তামা প্রয়োজন।
ফলে রাশিয়ার বিশাল তামার মজুদ ও চীনের শিল্প-প্রযুক্তি সক্ষমতার মধ্যে সহযোগিতা বাড়লে তা শুধু দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেই নয়, বৈশ্বিক তামার সরবরাহব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তামা তাই আর শুধু প্রাচীন সভ্যতার একটি ধাতু নয়; একুশ শতকের বিদ্যুৎ, প্রযুক্তি ও জ্বালানি রূপান্তরের অন্যতম কৌশলগত সম্পদ হয়ে উঠছে।






