পেটে জীবন্ত ২৬ ইঞ্চির বাইম মাছ, অস্ত্রোপচারে উদ্ধার

জীবন্ত বাইম মাছের অস্তিত্ব মিলল পেটে।
মাছ ধরার সময় পায়ুপথ দিয়ে শরীরে ঢুকে পড়ে মাছটি; অন্ত্র ফুটো হয়ে মারাত্মক সংক্রমণ, অস্ত্রোপচারে ২৬ ইঞ্চির মাছ উদ্ধার।
টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশের ৫৫ বছর বয়সী এক জেলের শরীর থেকে অস্ত্রোপচার করে প্রায় ২৬ ইঞ্চি লম্বা একটি জীবন্ত বাইম মাছ বের করেছেন চিকিৎসকেরা।
২০২৪ সালে ঘটে যাওয়া এ বিরল চিকিৎসা ঘটনা সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সার্জারি কেস রিপোর্টস-এ প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, মাছ ধরার সময় ওই ব্যক্তির পায়ুপথ দিয়ে জীবন্ত বাইম মাছটি শরীরের ভেতরে ঢুকে যায়। লজ্জার কারণে তিনি বিষয়টি চিকিৎসকদের জানাননি। মাছটি নিজে থেকেই বের হয়ে যাবে বলে তিনি অপেক্ষা করেন। পরে তীব্র পেটব্যথা ও সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।
পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, মাছটি অন্ত্রের দেয়াল ভেদ করে পেটের ভেতরে গুরুতর জটিলতা তৈরি করেছে। এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষায় অন্ত্র ফুটো হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া যায়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ ও নেপালের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত দলটি জরুরি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। অস্ত্রোপচারে রোগীর কোলন থেকে প্রায় ২৬ ইঞ্চি লম্বা জীবন্ত বাইম মাছটি বের করে আনা হয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের চিকিৎসা ও কোলস্টমি করা হয়।
চিকিৎসকদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোগীর সিগময়েড কোলনে প্রায় ৫ সেন্টিমিটার বা ২ ইঞ্চি আকারের ছিদ্র তৈরি হয়েছিল। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এর মাধ্যমে পেরিটোনাইটিস বা পেটের ভেতরের মারাত্মক সংক্রমণ হয়ে জীবনহানির আশঙ্কা ছিল।
গবেষণায় যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশের চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী মবিন ইবনে মকবুল, সৌমিক রায়, অমর্ত্য নারায়ণ রায় ও মোস্তফা নওয়াজ এবং নেপালের বিজ্ঞানী অমৃতা শ্রেষ্ঠা।
চিকিৎসা ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
প্রতিবেদনে ২০০৪ সালে হংকংয়ে একই ধরনের একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। সে ঘটনায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মলদ্বারে বাইম মাছ প্রবেশ করিয়েছিলেন।
বর্তমান ঘটনার রোগী অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং চার দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান।
চিকিৎসকেরা বলছেন, রোগীরা অনেক সময় লজ্জা বা অস্বস্তির কারণে গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক ঘটনার কথা চিকিৎসকদের জানান না।
এতে রোগ নির্ণয় বিলম্বিত হতে পারে। তাই তীব্র পেটব্যথা ও অস্বাভাবিক সংক্রমণ নিয়ে আসা রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের বিস্তারিত রোগ-ইতিহাস জানার পাশাপাশি বিরল কারণগুলোকেও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।






