পুলিশ সদস্যকে মারধর, যুবদল নেতা বহিষ্কার

থানার সামনে গাড়ি রাখা নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের অভিযোগ; আটক করে পরে বিএনপি নেতাদের জিম্মায় ছেড়ে দেয় পুলিশ।
টুইট প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে থানার সামনে গাড়ি রাখা নিয়ে বিরোধের জেরে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে সীতাকুণ্ড থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর ইসমাইল হোসেনকে আটক করে পুলিশ। পরে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা বৈঠকের পর মুচলেকা নিয়ে তাঁকে তাঁদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আজ শুক্রবার দুপুরে তাঁকে যুবদলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে ইসমাইল হোসেন কয়েকজন যুবদল নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে সীতাকুণ্ড থানায় যান। তিনি থানার ফটকের সামনে গাড়িটি রেখে চলে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর ফিরে এলে থানার গাড়িচালক কনস্টেবল মো. শফিক গাড়িটি সেখানে রাখার কারণ জানতে চান।
এ সময় শফিক পুলিশের পোশাকে ছিলেন না। গাড়ি রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করায় ইসমাইল তাঁর ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। শফিক নিজের পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁকে মারধর করা হয়। পরে থানায় থাকা পুলিশ সদস্যরা এসে ইসমাইলকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
মারধরের শিকার কনস্টেবল শফিক পরে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ইসমাইলকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। তাঁরা সেখানে বিক্ষোভ করেন। পরে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমল কদর ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহবুদ্দিন রাজুর নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা থানার ভেতরে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার ঘণ্টার আলোচনার পর ইসমাইল হোসেন সবার সামনে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। এরপর কয়েকজন বিএনপি নেতার জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, থানার সামনে গাড়ি রাখা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে কনস্টেবল শফিককে মারধর করা হয়। তাঁর ভাষ্য, মূলত ভুল–বোঝাবুঝি থেকেই ঘটনাটি ঘটেছে।
এদিকে ঘটনার পর আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ইসমাইল হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি। সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে যুবদল।
ঘটনার বিষয়ে ইসমাইল হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়; তাঁরাও সাড়া দেননি।






