বার্নআউট ঠেকাতে দরকার বিশ্রাম

টানা কাজের চাপে ক্লান্ত শরীর,মনকে সময় দেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের; এক দিনের ছুটিও হতে পারে পুনরুদ্ধারের সুযোগ।

টুইট প্রতিবেদক: কাজের ব্যস্ততা, অবিরাম যোগাযোগ আর ব্যক্তিগত জীবনের নানা দায়িত্ব সব মিলিয়ে অনেকের কাছেই বিশ্রামের সুযোগ কমে যাচ্ছে।

এর ফলে দীর্ঘদিনের ক্লান্তি একপর্যায়ে মানসিক ও শারীরিক অবসাদে রূপ নিতে পারে, যাকে বলা হয় বার্নআউট। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ছুটি নেওয়া সবার পক্ষে সম্ভব না হলেও নিয়মিত বিশ্রাম ও নিজের জন্য সময় বের করা জরুরি।

বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জীবনের পুরোটা শুধু পেশা ও উপার্জনের পেছনে ব্যয় করতে চান না। বিশেষ করে জেন-জি ও নবীন সহস্রাব্দ প্রজন্মের মধ্যে ধীরগতির জীবনযাপনের ধারণা জনপ্রিয় হচ্ছে। কাজের পাশাপাশি শখ, সম্পর্ক, ব্যক্তিগত সময় ও মানসিক স্বস্তিকেও তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ইংরেজ লেখক, পডকাস্টার ও উদ্যোক্তা এমা গ্যানন এমনই একটি অভিজ্ঞতার কথা তাঁর ‘আ ইয়ার অব নাথিং’ বইয়ে তুলে ধরেছেন। ২০২২ সালে টানা কাজ করতে করতে তিনি গুরুতর ক্লান্তিতে ভুগেছিলেন। পরে শরীর ও মন তাঁকে কার্যত কাজ থেকে বিরতি নিতে বাধ্য করে। এরপর তিনি এক বছর ছুটি কাটান।

এমার অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে, দীর্ঘ সময় কাজের চাপের মধ্যে থাকলে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। মাথায় চাপ অনুভূত হওয়া, কাজে বিভ্রান্তি এবং স্বাভাবিকভাবে কোনো কাজ করতে না পারার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাঁর মতে, শরীর ও মনকে বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে সবার পক্ষে এক বছর কাজ থেকে দূরে থাকা সম্ভব নয়। আর্থিক ও পেশাগত বাস্তবতার কারণে অধিকাংশ মানুষের জীবনেই দীর্ঘ বিরতি নেওয়ার সুযোগ সীমিত। তাই ছোট ছোট বিরতিকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিও কাজের চাপ বাড়ানোর অন্যতম কারণ। মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে কর্মক্ষেত্রের যোগাযোগ অফিসের সময়ের বাইরেও চলতে থাকে। ফলে ছুটির দিনেও অনেকে বার্তা, বৈদ্যুতিন ডাক কিংবা নানা কাজের চাপে থাকেন।

শুধু চাকরির কাজ নয়, ঘরের দায়িত্বও অনেকের বিশ্রামের সময় কমিয়ে দেয়। সপ্তাহজুড়ে কাজের পর ছুটির দিনেও নানা দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে প্রকৃত বিশ্রাম আর হয়ে ওঠে না। এভাবে জমতে থাকা ক্লান্তি ধীরে ধীরে কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দীর্ঘ ছুটি নেওয়া সম্ভব না হলে অন্তত মাঝেমধ্যে এক দিনের ছুটি নিয়ে সেটি নিজের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। ওই দিন কাজের চিন্তা থেকে দূরে থেকে ঘুমানো, বই পড়া, সিনেমা বা ধারাবাহিক দেখা, হাঁটাহাঁটি করা কিংবা নিজের পছন্দের কোনো কাজে সময় দেওয়া যেতে পারে।

কাজের ব্যস্ততার মধ্যে নিজের জন্য নির্ধারিত সময়কে বিলাসিতা হিসেবে না দেখে প্রয়োজন হিসেবে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া দীর্ঘ সময় একই গতিতে কাজ করে যাওয়া শেষ পর্যন্ত ক্লান্তি বাড়াতে পারে।

তাই বার্নআউট চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই নিয়মিত বিরতি ও ব্যক্তিগত সময় নিশ্চিত করাই হতে পারে কার্যকর পথ।