৮৭ ইউক্রেনীয় শিশুকে পরিবারের কাছে ফেরাতে সহায়তা কাতারের

যুদ্ধবন্দি ও আটক বেসামরিকদের ফেরানোর আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দোহা, শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান
টুইট ডেস্ক: ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে ২০২৩ সাল থেকে ১৪টির বেশি মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে কাতার। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ৮৭ ইউক্রেনীয় শিশুকে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কানাডার টরন্টোতে ২৮-২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ‘দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন অন রিটার্নিং ইউক্রেনিয়ান চিলড্রেন, ডিটেইনড সিভিলিয়ানস অ্যান্ড প্রিজনার্স অব ওয়ার’-এ কাতারের প্রতিনিধিত্ব করেন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. মরিয়ম বিনতে আলী বিন নাসের আল মিসনাদ।
সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর জোর দেন। তাঁর ভাষায়, বর্তমান সংকটের সমাধানে সংলাপ ও মধ্যস্থতাই গুরুত্বপূর্ণ পথ।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব। শিশুদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা মোকাবিলায় ইউক্রেন ও রাশিয়া—উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাতার মানবিক উদ্যোগ পরিচালনা করেছে।
এসব কার্যক্রমের মধ্যে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির সহযোগিতায় ১৪টির বেশি মানবিক অভিযান পরিচালিত হয়। পুনর্মিলনের পর কয়েকটি পরিবারকে দোহায় আতিথ্য দেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক পুনরুদ্ধারে বিশেষায়িত সহায়তাও দেওয়া হয়েছে বলে জানায় কাতার।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালে ইউক্রেনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ১০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেয় কাতার। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মৌলিক সেবার পাশাপাশি ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি উদ্যোগে আরও ২ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া শিশু সুরক্ষা ও শিক্ষা প্রকল্পে ৩৫ লাখ ডলার, ইউক্রেনীয় শিক্ষার্থীদের জন্য কাতারে উচ্চশিক্ষার ৫০টি বৃত্তি এবং ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে দোহা। ইউক্রেনীয় শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুতদের জন্য আরও ৫০ লাখ ডলার বরাদ্দ করেছে কাতার।
কাতারের প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তা দেশটির পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম ভিত্তি। সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান, সংলাপ জোরদার এবং মানুষের দুর্ভোগ কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে এসব মানবিক উদ্যোগ সমন্বিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সম্মেলনে কানাডার শান্তি ও শিশু সুরক্ষার উদ্যোগের প্রশংসা করে কাতার। দেশটি সবার জন্য শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে।






