কিশমিশ ভেজানো পানি ত্বক ও চুলে কতটা উপকারী

নিয়মিত পান করলে শরীরের পাশাপাশি ত্বক ও চুলের যত্নেও ভূমিকা রাখতে পারে,তবে সব দাবির পক্ষে সমান বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

টুইট প্রতিবেদক; সকালে খালি পেটে কিশমিশ ভেজানো পানি পান করার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। পুষ্টিগুণের কারণে কিশমিশ স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে পরিচিত। এতে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, বি-ভিটামিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। কিশমিশ ভিজিয়ে রাখা পানি পান করলে এসব উপাদানের কিছু অংশ পানিতে মিশতে পারে।

ত্বক ও চুলের যত্নের ক্ষেত্রেও কিশমিশ ভেজানো পানির কথা বলা হয়। তবে এটি কোনো রোগের চিকিৎসা বা নিশ্চিত সৌন্দর্যবর্ধক পানীয় নয়। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এর কিছু পুষ্টিগত উপকার পাওয়া যেতে পারে।

ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতায় ভূমিকা

কিশমিশে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতিকর জারণজনিত চাপ থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান এবং পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের সঙ্গে এটি ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

তবে কিশমিশ ভেজানো পানি শরীর থেকে তথাকথিত ‘বিষাক্ত পদার্থ’ বের করে ত্বক পরিষ্কার করে—এমন দাবির শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। শরীরের বর্জ্য অপসারণে মূল ভূমিকা রাখে যকৃত ও কিডনি।

চুলের গোড়া শক্ত রাখতে পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ

চুলের স্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত আয়রন, জিংক, প্রোটিন ও বিভিন্ন ভিটামিনের প্রয়োজন। কিশমিশে আয়রনসহ কিছু খনিজ উপাদান থাকায় এটি সামগ্রিক খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে উপকারী হতে পারে।

তবে চুল পড়ার কারণ যদি আয়রনের ঘাটতি, হরমোনের সমস্যা, বংশগত কারণ কিংবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা হয়, শুধু কিশমিশ ভেজানো পানি পান করলে তা বন্ধ হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বয়সজনিত ত্বকের পরিবর্তন

বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকে কোলাজেনের পরিমাণ ও গঠন পরিবর্তিত হয়। ফলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যেতে পারে এবং বলিরেখা দেখা দিতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার সামগ্রিকভাবে ত্বকের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখলেও কিশমিশ ভেজানো পানি একাই বার্ধক্যজনিত পরিবর্তন ঠেকাতে পারে—এমন প্রমাণ নেই।

হরমোনের পরিবর্তনে ব্রণ

ঋতুচক্র বা অন্যান্য হরমোনগত পরিবর্তনের সময় অনেকের ত্বকে ব্রণ ও প্রদাহের প্রবণতা বাড়তে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও কিশমিশ ভেজানো পানি এসব হরমোনজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করে দেএমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সীমিত।

কীভাবে খাবেন

কিশমিশ ভিজিয়ে পানি পান করতে চাইলে পরিষ্কার পানিতে অল্প পরিমাণ কিশমিশ কয়েক ঘণ্টা বা রাতভর ভিজিয়ে রেখে সকালে পানি পান করা যায়। তবে কিশমিশে প্রাকৃতিক চিনি ও ক্যালরি রয়েছে। তাই অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া বা পান করা উচিত নয়।

বিশেষ করে যাদের রক্তে শর্করার সমস্যা রয়েছে, তাদের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত কিশমিশ যুক্ত করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সব মিলিয়ে, কিশমিশ ভেজানো পানি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে। কিন্তু ত্বক উজ্জ্বল করা, চুল পড়া বন্ধ করা বা অকাল বার্ধক্য ঠেকানোর নির্দিষ্ট উপায় হিসেবে এটিকে দেখার চেয়ে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত ঘুম ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।