যুদ্ধ-সংঘাতে নারী-শিশুর ওপর নির্যাতন বন্ধের আহ্বান কাতারের

সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে নারী-শিশুর অধিকার রক্ষায় কাতারের আহ্বান। জেনেভায় মানবাধিকার কাউন্সিলের সংলাপে কাতারের স্থায়ী প্রতিনিধি; বিচার, জবাবদিহি ও ক্ষতিপূরণের ওপর গুরুত্ব। 

বিশ্ব ডেস্ক: সংঘাত ও সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নারী ও শিশুদের মানবাধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং গুরুতর লঙ্ঘন অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে কাতার।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৬৩তম অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত এক ইন্টার‌্যাকটিভ সংলাপে অংশ নিয়ে কাতারের অবস্থান তুলে ধরেন জেনেভায় জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাতারের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. হিন্দ আবদুর রহমান আল-মুফতাহ।

কাতারের বক্তব্যে তিনি বলেন, সশস্ত্র সংঘাতের সময় এবং সংঘাত-পরবর্তী পর্যায়ে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টি কাতারের পররাষ্ট্রনীতি, কূটনীতি ও মানবিক কার্যক্রমের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ড. হিন্দ আল-মুফতাহ জানান, নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় কাতার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে কোস্টারিকার সঙ্গে অংশীদারত্বে গৃহীত রেজোলিউশন ৬০/১৯-এর কথা উল্লেখ করেন তিনি। এর লক্ষ্য হলো সংঘাত ও সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নারী ও শিশুদের মানবাধিকার সুরক্ষা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা জোরদার করা।

এ ছাড়া ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘উইমেন ইন কনফ্লিক্ট জোনস’ কর্মসূচির বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় নারীদের সুরক্ষা জোরদার এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান কাতারের প্রতিনিধি।
সংঘাতকবলিত শিশুদের সুরক্ষায় কাতারের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জাতিসংঘ মহাসচিবের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির দপ্তরের অধীনে অ্যানালাইসিস অ্যান্ড রিপোর্টিং হাব কাতারে কার্যক্রম পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সংঘাত প্রতিরোধ, পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টাকে সহায়তা করছে।

কাতার সব সংঘাতের পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা পালনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর লঙ্ঘন অবিলম্বে বন্ধ, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের কার্যকর প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

কাতারের মতে, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন বাস্তবায়ন, জবাবদিহি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করা জরুরি।