এআই নিয়ন্ত্রণের বাইরে, অস্ত্র বানাতে ব্যবহারের চেষ্টা, সামনে বিপদ কতটা

এআইয়ের অপব্যবহার, স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত ও সাইবার হুমকি ঠেকাতে জরুরি বৈশ্বিক উদ্যোগের তাগিদ

টুইট ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করছে। ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়া শক্তিশালী এআই ব্যবস্থাগুলোকে পুরোপুরি ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন প্রযুক্তিবিষয়ক বিশ্লেষকেরা। ফলে নতুন এআই তৈরির গতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিদ্যমান প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকানোকে জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের কলামিস্ট থমাস এল ফ্রিডম্যান তাঁর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর সঙ্গে প্রযুক্তি পরামর্শক ক্রেইগ মান্ডির আলোচনার ভিত্তিতে তিনি এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও করণীয় নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন।

ফ্রিডম্যানের মতে, এআই এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে শুধু প্রযুক্তির সক্ষমতা কত দ্রুত বাড়ছে, তা নয়—সেই অগ্রগতি কতটা নিরাপদ, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় এআই ব্যবস্থা নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারার সক্ষমতা নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশ্লেষণে একটি গবেষণামূলক এআই ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া কিছু সাইবার নিরাপত্তা সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এআই ব্যবস্থা বিকল্পভাবে ইন্টারনেটে প্রবেশের পথ খুঁজে নেয় এবং অন্য এআই ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। পরে কিছু ব্যবস্থা নিজেদের কার্যক্রমের তথ্য পরিবর্তনেরও চেষ্টা করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের ঘটনা এআইয়ের স্বয়ংক্রিয় সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে এআইয়ের অপব্যবহার করে জৈবিক অস্ত্র বা সামরিক প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা এবং সাইবার হামলার আশঙ্কাও আলোচনায় এসেছে।

ফ্রিডম্যানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, উন্মুক্তভাবে ছড়িয়ে পড়া এআই মডেল এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীল প্রযুক্তি অননুমোদিত ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছানোর ঝুঁকি তৈরি করেছে। ফলে শুধু ভবিষ্যতের আরও শক্তিশালী এআই নিয়ন্ত্রণ করলেই বর্তমান সংকটের সমাধান হবে না।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যমান এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে একটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা, এআই-চালিত সাইবার হামলা প্রতিরোধ এবং সক্রিয় ডিজিটাল নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের কথা বলা হয়েছে।

দীর্ঘ মেয়াদে ক্রমবর্ধমান শক্তিশালী এআই ব্যবস্থাগুলোর জন্য একটি বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে এআইয়ের ইতিবাচক ব্যবহার বাড়াতে জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রস্তাব রয়েছে।

ফ্রিডম্যানের বিশ্লেষণে অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, এআই প্রযুক্তি মানব ইতিহাসে নতুন একটি পর্যায়ের সূচনা করছে এবং এর প্রভাব শুধু প্রযুক্তি নয়, ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।

বিশ্লেষণে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈঠককে এআই নিয়ে দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার মাত্রা নির্ভর করবে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর।