জাতিসংঘে শান্তির ঘণ্টা, বিশ্বকে ঐক্যের ডাক খলিলুর রহমানের

জাতিসংঘে শান্তির ঘণ্টা বাজিয়ে ঐক্যের আহ্বান। সাহস, সমঝোতা ও পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের মধ্য দিয়েই শান্তির ভিত্তি শক্ত করতে হবে: খলিলুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও অস্থিরতার মধ্যে শান্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শান্তির ঘণ্টা বাজানো হয়েছে।

৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের জাপানি উদ্যানে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমান, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং জাতিসংঘে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইয়ামাজাকি কাজুয়ুকি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে শান্তিকে কেবল একটি প্রত্যাশা নয়, বরং সাহস, সমঝোতা ও পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের মাধ্যমে অর্জনযোগ্য একটি বৈশ্বিক অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরা হয়। খলিলুর রহমানের বক্তব্যেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত উদ্যোগ ও নতুন করে আস্থা তৈরির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস প্রতি বছর ২১ সেপ্টেম্বর পালিত হয়। ১৯৮১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে দিবসটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ১৯৮২ সালে প্রথমবার দিবসটি পালন করা হয়। সেই হিসাবে ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস পালনের ৪৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসকে সামনে রেখে জাতিসংঘের শান্তির ঘণ্টা বাজানোর এই ঐতিহ্য বহু বছর ধরে চলে আসছে। শান্তির প্রতীক হিসেবে ঘণ্টাটি আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসের আগে এবং বসন্ত বিষুবের সময়—বছরে দুবার বাজানো হয়।
শান্তির প্রতীক ঐতিহাসিক ঘণ্টা

জাতিসংঘের শান্তির ঘণ্টাটি একটি জাপানি ‘বনশো’ বা বৌদ্ধধর্মীয় ঘণ্টা। ১৯৫৪ সালে জাতিসংঘের জাপান সমিতির মাধ্যমে এটি জাতিসংঘকে উপহার দেওয়া হয়। ঘণ্টাটি দানের উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন জাপানের নাগরিক চিয়োজি নাকাগাওয়া।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা মুদ্রা দিয়ে ঘণ্টাটি তৈরি করা হয়। এতে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার পাশাপাশি বিভিন্ন পদকও ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি পোপ দ্বাদশ পিয়াসুর দেওয়া একটি পদকও এতে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ঐতিহাসিক তথ্য রয়েছে।

ঘণ্টাটিতে এমন একটি বার্তা খোদাই করা রয়েছে, যার অর্থ দাঁড়ায়—‘পরম বিশ্বশান্তি দীর্ঘজীবী হোক।’ জাতিসংঘ সদর দপ্তরের জাপানি উদ্যানে একটি ছোট কাঠের কাঠামোর মধ্যে ঘণ্টাটি স্থাপন করা হয়েছে।

সংঘাতের বিশ্বে শান্তির নতুন অঙ্গীকার

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত, যুদ্ধ, মানবিক সংকট ও পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়তে থাকায় জাতিসংঘের শান্তির ঘণ্টা বাজানোর অনুষ্ঠানটি নতুন তাৎপর্য পেয়েছে। অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যগুলোতে একই বার্তা উঠে এসেছে—শান্তি কখনো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না; এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সাহস, সমঝোতা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও সাধারণ পরিষদের সাম্প্রতিক সভাপতিদের বক্তব্যেও শান্তিকে বেছে নেওয়া এবং সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ ও সহযোগিতার পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান বারবার উঠে এসেছে।

৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির অধিবেশন-স্লোগান ‘ফিট ফর ফিউচার’—এর সঙ্গেও শান্তি, আস্থা ও ভবিষ্যৎ বিশ্বের জন্য বহুপক্ষীয় সহযোগিতার এই আহ্বানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

শান্তির ঘণ্টার ধ্বনি তাই কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতার প্রতীক নয়; বরং যুদ্ধ ও বিভাজনের বিপরীতে সংলাপ, সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে বেছে নেওয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি একটি প্রতীকী আহ্বান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।