গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যের ডাক, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে সম্মিলিত উদ্যোগ চান প্রধানমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান।
নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, রাজনৈতিক শিষ্টাচার, জাতীয় ঐক্য এবং বাস্তবসম্মতভাবে সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ভিন্নমতকে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অনুষঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে শত্রুতায় রূপ না দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে ভিন্নমত ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে—এটাই গণতান্ত্রিক চর্চার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তবে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ ও বিরোধ এমন পর্যায়ে পৌঁছানো উচিত নয়, যাতে পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ পায়। এ ধরনের পরিস্থিতি গণতন্ত্রের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
বাকস্বাধীনতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিদ্যমান। তবে বাকস্বাধীনতা যেন শালীনতার সীমা অতিক্রম না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পারিবারিক পরিবেশে যেসব শব্দ ব্যবহারে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না, জনপরিসরেও সেসব শব্দ পরিহার করা উচিত। তিনি গালাগালির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে শুধু সরকারের নয়, জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে এর সমাধানে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, গাড়ির লংমার্চের মাধ্যমে যদি সমস্যার সমাধান সম্ভব হতো, তাহলে সরকারই আগে এর আয়োজন করত। দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে পর্যাপ্ত উদ্যোগের অভাব, আমদানিনির্ভরতা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার কারণে সংকট তীব্র হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশে পরিণত করার পরিকল্পনার কথাও জানান। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদকে দেশের সব আলোচনা ও সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া খেলাপি ঋণের বোঝা কমাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন। এসব উদ্যোগের ফলে খেলাপি ঋণের অনুপাত কিছুটা কমেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”—এই লক্ষ্য সামনে রেখে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। বিরোধী দলও সরকারের অংশ—উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জনগণের কল্যাণে সরকার ও বিরোধী দলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং দায়িত্বশীল আচরণের ওপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং জাতীয় সমস্যাগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে।





