রাবি মন্নুজান হলে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সংস্কৃতি ও ক্রীড়া চর্চায়   শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মন্নুজান হলের বার্ষিক সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মন্নুজান হল মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য ও দুই উপ-উপাচার্য মন্নুজান হলের বার্ষিক সাহিত্য-সাংস্কৃতিক এবং অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মূল লক্ষ্য অবশ্যই নিয়মিত পড়াশোনা ও জ্ঞানচর্চা। তবে এর পাশাপাশি পাঠ্যক্রম-বহির্ভূত কর্মকাণ্ডেও তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার মতো কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করে।

তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শুধু শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশই ঘটে না, তাদের সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়, যা ভবিষ্যৎ জীবনে তাদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম মন্নুজান হলের বার্ষিক সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থীকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সৃজনশীল ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি তাদের প্রতিভা বিকাশে অন্যান্য কার্যক্রমকেও উৎসাহিত করতে হল প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে আরও সুস্থ ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

তিনি বলেন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে ওঠে। এর ফলে তাদের সামাজিকীকরণও ঘটে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও ক্রীড়া চর্চাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম, আইসিটি সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক প্রফেসর মো. হাসনাত কবীরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্নুজান হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর মোছা. আশিয়ারা খাতুন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান এবং হলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া চর্চায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে মন্নুজান হলের বার্ষিক সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আয়োজকরা মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।