মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা, জর্দানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে জর্দানের দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি আইআরজিসির; আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের কথা জানিয়েছে জর্দান
বিশ্ব ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা জর্দানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছেন। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্দানের কিং হুসেইন ও আল-আজরাক (মুওয়াফ্ফাক সালতি) বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।
রোববার (৩০ আগস্ট) প্রায় এক মাস পর প্রথমবারের মতো ইরানের ওপর সরাসরি হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর লারাক দ্বীপে ইরানের দুটি রকেট উৎক্ষেপণকারী ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।
মার্কিন পক্ষের দাবি, আইআরজিসির সদস্যরা সেখানে সমুদ্রে মাইন বহনের উদ্দেশ্যে রকেট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেই প্রস্তুতি ঠেকাতেই লারাক দ্বীপে হামলা চালানো হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় কয়েকজন সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। এ হামলাকে আইআরজিসি ‘কৌশলগত ও মারাত্মক ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং এর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেয়।
এরপর জর্দানে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। আইআরজিসির দাবি, হামলায় ঘাঁটিগুলোর প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা এবং যুদ্ধবিমানের অবস্থানে ‘ভারী ক্ষতি’ হয়েছে।
তবে জর্দানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের সংবাদদাতা ট্রেই ইংস্ট মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্রই আটকানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত হামলায় কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলা এবং তার পর জর্দানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সরাসরি সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
এই সংঘাত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের অংশ। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওই সংঘাত কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। হরমুজ প্রণালীতে মাইন পরিষ্কারের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর কথা বলছিল।
কিন্তু লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা এবং এর জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে আবারও নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, রয়টার্স, ওয়াইনেটনিউজ, ইউএসএ টুডে, ফক্স নিউজ, আইআরজিসির বিবৃতি ও জর্দানের সামরিক বিবৃতি।






