চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ কাদা-ধস, নিহত ১৬, নিখোঁজ ৫৪৬

নিখোঁজদের মধ্যে ২৩ দেশের ২৬১ বিদেশি নাগরিক; নেপালে মৃত ৭৩৪, দুই দেশে নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার। মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, উদ্ধারকাজ অব্যাহত।
বিশ্ব ডেস্ক: চীন-নেপাল সীমান্তে তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের জিরং (Gyirong) পোর্টে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ কাদা-ধসে এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) চীনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৬ আগস্ট সকালে নেপালের লাংটাং লিরাং চূড়ার দক্ষিণ ঢালে প্রায় ৫,২০০ মিটার উচ্চতায় হিমবাহ ভেঙে বরফ-পাথরের বিশাল ধস শুরু হয়। মাত্র ছয় থেকে সাত মিনিটের মধ্যে এই ধস প্রায় ২০-২২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চীনের জিরং পোর্টে আঘাত হানে। গতি ছিল প্রায় ৫০ মিটার প্রতি সেকেন্ড। এর ফলে পুরো সীমান্ত বন্দর
এলাকায় সুনামির মতো কাদা, পাথর ও পানির প্রবাহ ছড়িয়ে পড়ে।
চীনা পররাষ্ট্র, জননিরাপত্তা, সংস্কৃতি ও পর্যটন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যৌথ তথ্য যাচাইয়ের পর এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে নেপালের ১০৪ জন, ভারতের ৪৯ জন, লাটভিয়ার ৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন, ব্রিটেনের ১৫ জন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার ৬ জন করে, দক্ষিণ আফ্রিকার ৪ জন, মালয়েশিয়া-জার্মানি-রাশিয়ার ৩ জন করে এবং আরও কয়েকটি দেশের নাগরিক রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
পাশের দেশ নেপালে একই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে পৌঁছেছে। সেখানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার।
চীনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে হিমবাহের অস্থিরতাই এ দুর্যোগের মূল কারণ। উদ্ধারকাজে হাজারের বেশি সেনা, ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ঊর্ধ্বে নতুন বাধা হ্রদ গঠনের আশঙ্কায় কিছু এলাকা থেকে উদ্ধারকর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক উদ্ধার ও তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের হিমবাহ-ধসজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আরও উদ্ধারকাজ চলমান।






