পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরানে, ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা; যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতার তৎপরতা বৃদ্ধি।
বিশ্ব ডেস্ক: পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি সোমবার (২৪ আগস্ট) ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন। সফরের শুরুতেই তাঁরা ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপত্র আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের এই তেহরান সফর। সফরে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের শান্তিপূর্ণ, স্থায়ী ও ব্যাপক সমাধানের প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেবেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই রোববার (২৪ আগস্ট) জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান একটি সরকারি প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরান সফর করবেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা অব্যাহত রাখা।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যেই সফর
আসিম মুনিরের তেহরান সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সোমবারই নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণা করতে পারেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য মার্কিন চাপের জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে জুনে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে একটি কাঠামো তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পায়। তারপরও পাকিস্তান উভয় পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
এ বছর একাধিকবার তেহরানে আসিম মুনির
ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের চলতি বছরে এটি তেহরানে তৃতীয় বা চতুর্থ সফর বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে। এবারের সফরে তিনি ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরও বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গেও আলোচনা করতে পারেন। এসব বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি, চলমান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে মতবিনিময় হতে পারে।
নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনাও আলোচনায়
সফরে পাকিস্তান ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুই দেশের অভিন্ন সীমান্তসংক্রান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে।
পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ফলে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়েও এবারের সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। একদিকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা—দুই দিক থেকেই আসিম মুনিরের এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।






