২৪-এর আন্দোলন ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল: জামায়াত আমির

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পরও ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা’ দূর হয়নি, দাবি জামায়াত আমিরের

টুইট ডেস্ক: ২০২৪ সালের আন্দোলনকে চূড়ান্ত যুদ্ধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, এটি ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি বা মহড়া-এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালে যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিলেন, তারা কেউ মারা যাননি বা ঘুমিয়ে পড়েননি। তারা এখনো সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছেন। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী প্রস্তুত করা ও মহড়া দেওয়ার উদাহরণ টেনে তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনকে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের পর দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি, বরং আবর্জনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।

জামায়াত আমিরের দাবি, ফ্যাসিবাদ একটি সংক্রামক ব্যাধির মতো, যা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। তার অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী সরকার যে পথে হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই পথ অনুসরণ করছে। এ পথ পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি ‘আয়নাঘরের পথ’ এবং বিনা বিচারে মানুষ হত্যার পথ। বাংলাদেশের মানুষ কাউকে সেই পথে চলতে দেবে না।

জুলাই জাদুঘর থেকে বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপাদান সরিয়ে ফেলার অভিযোগ প্রসঙ্গেও কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সচেতন নাগরিকদের প্রত্যেকেরই এ জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। তার দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশের দুঃখের ঘটনাগুলো সেখানে তুলে ধরা হলেও পরবর্তী সময়ে বিশেষ একটি দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করতে এর অনেক উপাদান সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ১৯৪৬-৪৭ সাল থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্মৃতি, নির্যাতিত মানুষের ছবি ও স্মৃতিচিহ্নের কিছু অংশও জাদুঘর থেকে সরানো হয়েছে।

এ সময় তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তি নিয়েও কথা বলেন। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বের কাছে একটি দেশের মানুষের সম্মানের অন্যতম মানদণ্ড হলো পাসপোর্টের শক্তি। বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।