সরকারের ছয় মাসে অর্থনীতিতে ‘নেতিবাচক প্রবণতা বেশি’: সিপিডি

মূল্যস্ফীতি ও রিজার্ভে কিছুটা স্বস্তি, তবে রাজস্ব, বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ
টুইট ডেস্ক: নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেলেও দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে এখনো নেতিবাচক প্রবণতাই বেশি বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত এক মিডিয়া সংলাপে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রমের পর্যালোচনা তুলে ধরেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসে একটি মিশ্র চিত্র পাওয়া গেলেও নেতিবাচক প্রবণতার আধিক্য রয়েছে। এর বড় অংশই কাঠামোগত সমস্যা।
সিপিডির মূল্যায়নে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৩ শতাংশে এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য ও নেতিবাচক প্রকৃত মজুরি প্রবৃদ্ধির কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো বেশি।
রাজস্ব আদায়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। মার্চ থেকে মে সময়ে কর রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে সিপিডি।
বিনিয়োগ পরিস্থিতিও দুর্বল। ফেব্রুয়ারি থেকে জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কমেছে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র খোলা ও নিট বিদেশি বিনিয়োগও।
গ্যাস সংকটকে শিল্প ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিপিডি। টেক্সটাইল, ইস্পাত, কাগজ, পার্টিকেল বোর্ড ও সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্পে গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে। শিল্প উৎপাদনের প্রবৃদ্ধিও উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে।
অন্যদিকে, ব্যাংক খাতে পাঁচটি সংকটাপন্ন ইসলামী ব্যাংক একীভূত করাসহ কিছু উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে সিপিডি। তবে ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারে পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ আগস্টের মধ্যে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ৩০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি ও চলতি হিসাবে ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
সিপিডির মতে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে রাজস্ব, ব্যাংক, জ্বালানি, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন ব্যয়সহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন জরুরি। পাশাপাশি জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছে সংস্থাটি।






