রাজশাহী রেঞ্জে অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর নজরদারি ও বিশেষ অভিযান

মাদক, অস্ত্র, চোরাই মালামাল ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান; বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।

নিজস্ব প্রতি‌নি‌ধি: রাজশাহী বিভাগের আট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে বহুমাত্রিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ।

অপরাধ দমন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরঞ্জাম উদ্ধার, চোরাই ও ডাকাতি হওয়া মালামাল জব্দ এবং জঙ্গি ও চরমপন্থীদের তৎপরতা প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি জেলা সদর ও থানা পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে চেকপোস্ট স্থাপন, সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি এবং অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ সামগ্রী পরিবহন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ বলছে, জঙ্গি ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন বা কোনো অপশক্তির বেআইনি কর্মকাণ্ড যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ বলেন, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন”—এই নীতি সামনে রেখে পুলিশ কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়মতান্ত্রিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি জনসাধারণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের ফলে মানুষের মধ্যে স্বস্তি এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

ডিআইজি আরও বলেন, প্রতিটি থানাকে জনবান্ধব ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে পুলিশ। জনগণ যাতে কোনো ধরনের ভয় বা হয়রানি ছাড়াই পুলিশের কাছে অভিযোগ ও সহযোগিতার জন্য আসতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, জনগণের সহযোগিতা ও তথ্যের ভিত্তিতেও কার্যকরভাবে সম্ভব। তাই অপরাধ, মাদক, অবৈধ অস্ত্র কিংবা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের এ বহুমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে বিভাগের আট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।