দুই এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস মিলছে ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট

সরবরাহ শুরু সামিট টার্মিনালেও, সংকট কাটাতে স্বস্তির আভাস

টুইট ডেস্ক: নতুন এলএনজি কার্গো ভেড়ানোর পর সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে আবারও গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এতে মহেশখালীর দুই এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে বর্তমানে মোট ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর ৪টার হিসাবে সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৪৬০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং মহেশখালীর এক্সিলারেট এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে একটি এলএনজি কার্গো টার্মিনালে ভেড়ানো না যাওয়ায় বুধবার বেলা ৩টার পর সামিট টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের আপত্তির কারণে ‘আল হামরা’ নামের এলএনজিবাহী জাহাজটি টার্মিনালে ভেড়ানো সম্ভব হয়নি বলে পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের দৈনিক রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা মোট ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে এক্সিলারেটের সক্ষমতা ৬০০ এবং সামিটের ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে বর্তমানে দুই টার্মিনাল মিলে সরবরাহ হচ্ছে ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এদিকে গত ২১ জুলাই এক্সিলারেটের টার্মিনালে আগুনে বয়লার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর একটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট আংশিকভাবে চালু হলেও সেটি এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই টার্মিনালের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়।

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। দেশীয় গ্যাস ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে স্বাভাবিক সময়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ থাকে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির এলএনজি সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে।