উচ্চতা ভীতি বা অ্যাক্রোফোবিয়া! জেনে নিন কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

কেন হয় এই সমস্যা, কী লক্ষণ এবং কীভাবে মিলবে সমাধান
টুইট ডেস্ক: বহুতল ভবনের ছাদে দাঁড়ানো, ব্যালকনি থেকে নিচে তাকানো, উঁচু সেতু পার হওয়া বা কাচের লিফটে ওঠার সময় অনেকেরই অস্বস্তি হয়। নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত এমন অনুভূতি স্বাভাবিক। তবে এই ভয় যদি অতিরিক্ত হয়ে দৈনন্দিন জীবনযাপন ব্যাহত করে, তাহলে সেটি হতে পারে অ্যাক্রোফোবিয়া (Acrophobia) বা উচ্চতা ভীতি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাক্রোফোবিয়া এক ধরনের উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যা (Anxiety Disorder)। এতে ব্যক্তি উচ্চতা নিয়ে তীব্র ও অযৌক্তিক ভয় অনুভব করেন। অনেক সময় উঁচু স্থানে যাওয়ার চিন্তাও তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। ফলে বহুতল ভবন, ব্যালকনি, সেতু, পাহাড় বা কাচের লিফট ব্যবহার এড়িয়ে চলেন।
অ্যাক্রোফোবিয়া কী
অ্যাক্রোফোবিয়া এমন একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যেখানে নিরাপদ উচ্চতাতেও ব্যক্তি অতিরিক্ত ভয় ও আতঙ্ক অনুভব করেন। এই ভয় শুধু মানসিক অস্বস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং কর্মক্ষেত্র, পড়াশোনা, ভ্রমণ ও সামাজিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কেন হয় উচ্চতা ভীতি
অ্যাক্রোফোবিয়ার নির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে কয়েকটি বিষয় এ সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিবর্তনগত কারণ: ঝুঁকিপূর্ণ উচ্চতা এড়িয়ে চলার প্রাকৃতিক প্রবণতা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভীতিতে পরিণত হতে পারে।
অতীতের দুর্ঘটনা বা ট্রমা: শৈশবে বা জীবনের কোনো সময় উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাওয়া কিংবা এমন দুর্ঘটনার সাক্ষী হওয়া।
বংশগত প্রভাব:পরিবারের অন্য কারও এ সমস্যা থাকলে ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।
লক্ষণ
শারীরিক লক্ষণ
* হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
* অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
* শরীর কাঁপা
* মাথা ঘোরা
* শ্বাসকষ্ট
* বমি বমি ভাব
মানসিক লক্ষণ
* তীব্র উদ্বেগ
* প্যানিক অ্যাটাক
* পড়ে যাওয়ার অতিরিক্ত ভয়
* দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা
আচরণগত লক্ষণ
* উঁচু স্থান এড়িয়ে চলা
* লিফট ব্যবহার না করা
* বহুতল ভবনে যেতে অস্বস্তি
* প্রয়োজনীয় ভ্রমণ বা কাজ থেকে বিরত থাকা
কীভাবে দূর করবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে অ্যাক্রোফোবিয়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
ধাপে ধাপে উচ্চতার সঙ্গে পরিচিত হওয়া (Gradual Exposure): নিরাপদ পরিবেশে ধীরে ধীরে উচ্চতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া।
কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT): অযৌক্তিক ভয় ও নেতিবাচক চিন্তা পরিবর্তনে কার্যকর একটি চিকিৎসা পদ্ধতি।
রিল্যাক্সেশন টেকনিক: গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, মেডিটেশন ও পেশী শিথিলকরণের অনুশীলন উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।
প্রয়োজনে ওষুধ: তীব্র সমস্যার ক্ষেত্রে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
উচ্চতা ভয়ের কারণে যদি নিয়মিত কাজ, পড়াশোনা, ভ্রমণ বা কর্মজীবন ব্যাহত হয় অথবা ঘন ঘন প্যানিক অ্যাটাক দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শেষ কথা
অ্যাক্রোফোবিয়া বা উচ্চতা ভীতি একটি স্বীকৃত মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি কোনো দুর্বলতার লক্ষণ নয়। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে অধিকাংশ মানুষই এই ভয় কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তাই উচ্চতা নিয়ে অযৌক্তিক ভয়কে অবহেলা না করে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।






