মাদক ছাড়তে থানায় স্বেচ্ছায় যুবকের আত্মসমর্পণ

‘মাদক আমার জীবন ধ্বংস করেছে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই’ কান্নায় ভেঙে পড়ে পুলিশের কাছে নিজেই গ্রেপ্তারের অনুরোধ।

টুইট প্রতিবেদক: মাদকাসক্তির কারণে পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের মো. শুকুর আলী (৩০)। শেষ পর্যন্ত নিজের ভুল বুঝতে পেরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকাঙ্ক্ষায় নিজেই থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে গ্রেপ্তারের অনুরোধ করেছেন তিনি। পরে তাঁকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার নিজে থেকেই সৈয়দপুর থানায় হাজির হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শুকুর আলী বলেন, ‘মাদক আমার জীবন ধ্বংস করেছে। আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই। আমাকে কারাগারে পাঠান, গ্রেপ্তার করুন।’

পুলিশ জানায়, প্রায় ১০ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করছিলেন শুকুর। প্রতিদিন মাদক সেবনে তাঁর এক হাজার টাকার বেশি খরচ হতো। মাদক সেবনের পাশাপাশি এলাকার অন্য মাদকসেবীদের কাছে মাদক সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

মাদকাসক্ত ছেলের পেছনে অর্থ জোগাতে গিয়ে শুকুরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাবা নবাব আলীও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তাঁর ভাষ্য, ছেলের নেশার কারণে তিনি প্রায় সবকিছু হারিয়েছেন। সামাজিকভাবেও তাঁকে নানা সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে।

শুকুরের মাদকাসক্তির প্রভাব পড়েছে তাঁর পরিবারেও। তাঁর দুই নাবালক সন্তান সামাজিক লজ্জার কারণে বিদ্যালয়ে যেতে অনীহা প্রকাশ করছিল। স্বামীকে মাদকের পথ থেকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে তাঁর স্ত্রীও বাবার বাড়িতে চলে যান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাদক সেবনের পর শুকুরের বেপরোয়া আচরণে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ ছিলেন। তাঁকে একাধিকবার মাদক ছাড়ার জন্য বোঝানো হলেও তাতে কাজ হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত নিজে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম রেজা বলেন, থানায় এসে শুকুর জানান, মাদকের কারণে তাঁর সবকিছু শেষ হয়ে গেছে এবং সমাজে তাঁর কোনো মর্যাদা নেই। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা তাঁকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। সোমবার তাঁকে নীলফামারী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্বেচ্ছায় থানায় গিয়ে মাদক ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়ায় শুকুর আলীর এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সৈয়দপুর মাদক নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক এরশাদ হোসেন পাপ্পু। তিনি জানান, মাদক নির্মূলে এলাকায় ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে এবং প্রতিটি ওয়ার্ড ও মহল্লায় প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শুকুর আলীর ঘটনা মাদকাসক্তির ভয়াবহ সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাবের পাশাপাশি আসক্ত ব্যক্তি নিজের ভুল উপলব্ধি করে পরিবর্তনের পথে ফিরতে চাইলে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহায়তার গুরুত্বও সামনে এনেছে।