রাঙামাটির পাহাড়ে বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, বর্ষায় বাড়ছে ধস আতঙ্ক

নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতার পরও ঝুঁকিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষ, সমাধান দেখছেন পুনর্বাসনে

টুইট ডেস্ক: বর্ষা মৌসুম এলেই রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের শঙ্কা তীব্র হয়ে ওঠে। তবে সতর্কতা, প্রশাসনিক নজরদারি ও অতীতের প্রাণঘাতী অভিজ্ঞতার পরও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপন কমেনি; বরং সময়ের সঙ্গে বেড়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাঙামাটিতে ১২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত রয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ৬ হাজার পরিবারের ২০ হাজারের বেশি মানুষ পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। শহরের শিমুলতলী, রূপনগর, সনাতন পাড়া, যুব উন্নয়ন এলাকা ও রাঙাপানিসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ঘেঁষে ঘনবসতি গড়ে উঠেছে। একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও।

২০১৭ ও ২০১৮ সালের ভয়াবহ পাহাড় ধসে ১৩১ জনের প্রাণহানির পর প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন সংকট, শহরে বাড়িভাড়ার চাপ এবং জীবনযাত্রার প্রয়োজনের কারণে অনেকেই ঝুঁকি জেনেও স্থান ত্যাগ করছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাহাড়ঘেঁষা এলাকাগুলোতে সড়ক, যোগাযোগ ও বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা বাড়ায় বসবাসের আগ্রহও বেড়েছে। তবে বর্ষা মৌসুমে আতঙ্ক দেখা দিলে অনেক পরিবার সাময়িকভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যায়।

স্থানীয়দের মতে, কেবল সতর্কতা বা উচ্ছেদ নয়—স্থায়ী পুনর্বাসন ছাড়া এই সংকটের কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়। নিরাপদ আবাসনের নিশ্চয়তা পেলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছাড়তে অনেকেই আগ্রহী হবেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতি বর্ষায় সাময়িক প্রস্তুতির বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ভূমি ব্যবস্থাপনা সংস্কার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নতুন বসতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বর্ষা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে এবং মানুষকে সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার কার্যক্রম চলছে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের ভাষ্য, ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে কাজ চলমান রয়েছে।