ঈদ উৎসবে চরে কাবাডির উন্মাদনা

ঈদের আনন্দে মাদারীপুরে ঐতিহ্যের প্রত্যাবর্তন, হাজারো মানুষের ভিড়ে মুখর নদীচর
টুইট ডেস্ক: ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাদারীপুরের একটি নদীচরে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী কাবাডি খেলা। জাতীয় খেলার এই আয়োজন ঘিরে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণ সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মতে, হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ খেলাধুলাকে ফিরিয়ে আনার এমন উদ্যোগ সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করছে।
শনিবার বিকেলে মাদারীপুর সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীপুর এলাকায় বিলপদ্মা নদীর চরে এই কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মানবিক সংগঠন ‘স্বপ্নের আলো’র উদ্যোগে আয়োজিত খেলাটি দেখতে দুপুর থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ জড়ো হতে থাকেন। প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের শহর থেকেও অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।
আয়োজকেরা জানান, গ্রামীণ ক্রীড়া সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি তরুণ সমাজকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। প্রখর রোদের মধ্যেও মাঠ ছিল দর্শকে পরিপূর্ণ। ৪০ মিনিটের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় ‘বাংলার দামাল দল’ ১-০ সেটে ‘প্রবাসী কিং ক্লাব’-কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলকে ট্রফি, নগদ অর্থ এবং রঙিন টেলিভিশন পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়।
দর্শকদের ভাষ্যেও উঠে এসেছে আয়োজনটির সামাজিক গুরুত্ব। খেলা দেখতে আসা সুমাইয়া আক্তার বলেন, পরিবারের সবাই একসঙ্গে খেলা উপভোগ করে আনন্দ পেয়েছেন। ঈদের তৃতীয় দিনের এই আয়োজন কার্যত একটি মিলনমেলায় রূপ নেয়। অন্য দর্শক নাসির উদ্দিন লিটনের মতে, হাজারো মানুষের একসঙ্গে খেলা উপভোগের দৃশ্য গ্রামীণ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
খেলোয়াড়দের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ। কাবাডি খেলোয়াড় আজিজুল আকন বলেন, জয়-পরাজয়ের চেয়ে মানুষের বিনোদন নিশ্চিত করাই তাঁদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। আরেক খেলোয়াড় নুর আলম আক্ষেপ করে বলেন, একসময় গ্রামবাংলার জনপ্রিয় ‘হাডুডু’ এখন খুব কমই দেখা যায়। তিনি নিয়মিত এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় নদীচরে আয়োজিত কাবাডি প্রতিযোগিতা শুধু একটি খেলাধুলার আয়োজন নয়; এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ফুটবল, ক্রিকেটসহ আরও বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।






