সীমান্তে চোরাচালান বৃদ্ধি: মাদক সিন্ডিকেটে লাগাম টানতে সম্পদ জব্দের উদ্যোগ

রাজশাহীর সীমান্তজুড়ে মাদক, হুন্ডি ও সোনা পাচার রোধে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন। মাদক কারবারিদের হালনাগাদ তালিকা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ আশপাশের সীমান্ত এলাকা ক্রমেই মাদক, অবৈধ অর্থ পাচার ও সোনা চোরাচালানের অন্যতম রুটে পরিণত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গোদাগাড়ী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলি ও চরবাগডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে নিয়মিতভাবে বিপুল পরিমাণ মাদক দেশে প্রবেশ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোদাগাড়ী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলি ও চরবাগডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক দেশে প্রবেশ করছে। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বড় চালান আটক করতে সক্ষম হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধরা পড়ে কেবল বাহকরা। আর মূল হোতারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তজুড়ে সক্রিয় এসব চক্রের বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে প্রশাসন। মাদক কারবারিদের তালিকা হালনাগাদের পাশাপাশি তাদের অবৈধ সম্পদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ কাজে সহযোগিতা করছে সীমান্ত এলাকার থানা পুলিশও।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারির বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি এক মাদক কারবারির বাড়ি সিলগালা করার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ বলছে, গত দুই বছরে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মাদকবিরোধী অভিযান অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে অধিকাংশ ঘটনায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় মাদক সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গোদাগাড়ী থানার এসআই জুয়েল রানা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় মাদক কারবারিদের তালিকা হালনাগাদের কাজ চলছে। পুরোনো তালিকায় থাকা অনেক ব্যক্তি মারা গেছেন বা পেশা পরিবর্তন করেছেন। তাই প্রকৃত কারবারিদের শনাক্ত করতে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অভিযান ও অপরাধ) এটিএম মাইনুল ইসলাম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং তালিকা হালনাগাদের কাজ চলমান রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি আগের মতোই অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।