কালবৈশাখীর তাণ্ডবে অন্ধকারে মাদারগঞ্জ

বিদ্যুৎহীন ৬০ গ্রাম, দুর্ভোগে দেড় লাখ মানুষ।

টুইট প্রতিবেদক: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা জুড়ে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঝড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়া, গাছ উপড়ে লাইনের ওপর পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় অন্তত ৬০টি গ্রাম দুই দিন ধরে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে দেড় লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও অন্তর্জালসেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শক্তিশালী কালবৈশাখীতে শতাধিক ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হয়। পাশাপাশি পাঁচ শতাধিক গাছ উপড়ে পড়ে। ঝড়ের পরপরই বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চরপাকেরদহ, কড়ইচড়া, গুনারীতলা, বালিজুড়ী ও জোড়খালী ইউনিয়নের বহু গ্রাম। পাশাপাশি মাদারগঞ্জ পৌরসভার কয়েকটি এলাকাও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টানা দুই দিন বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, খাবার সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না এবং দৈনন্দিন জীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

গুনারীতলা ইউনিয়নের জোড়খালী গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় অধিকাংশ মানুষের মোবাইল বন্ধ হয়ে গেছে। ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংস নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

একই এলাকার মিজানুর রহমান জানান, ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছ বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ছিঁড়ে ফেলেছে। ফলে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফোনে চার্জ দিতে না পারায় জরুরি যোগাযোগও সম্ভব হচ্ছে না।

চরপাকেরদহ ইউনিয়নের অটোরিকশাচালক মহিবুল হাসান বলেন, এমনিতেই এলাকায় লোডশেডিং ছিল নিয়মিত। এখন টানা দুই দিন বিদ্যুৎ না থাকায় অটোরিকশা চার্জ দিতে পারছেন না। ফলে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে।

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাতটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৭০ স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে এবং ১৩০টির বেশি স্থানে গাছ পড়ে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মাঠপর্যায়ে মেরামতকাজ চলছে।

তিনি বলেন, জনবল সংকট ও টানা বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা ধীরগতিতে এগোলেও কর্মীরা গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন।

এদিকে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী জানিয়েছেন, কালবৈশাখীতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ