ঈদের পর শুরু হচ্ছে রামিসা হত্যা মামলার বিচার

ডিএনএ প্রতিবেদন পেলেই চার্জশিট, দ্রুত বিচার নিশ্চিতে সরকারের উদ্যোগ।
টুইট ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম ঈদের পরপরই শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হাতে পাওয়া গেলে ঈদের আগেই মামলার চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে।
শনিবার রাজধানীতে লিগ্যাল এইড–সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান। আলোচনায় উঠে আসে দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি।
আইনমন্ত্রী বলেন, ডিএনএ প্রতিবেদন ছাড়া চার্জশিট দেওয়া হলে ভবিষ্যতে বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। সে কারণে তদন্তে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নিশ্চিত করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দ্রুত চার্জশিট দাখিল করবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মামলাটির বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ঈদের ছুটি শেষে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।
মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা কমানোর উদ্যোগ
উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়েও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিচারিক আদালতের রায় হাইকোর্টে পাঠানোর পর ‘পেপার বুক’ প্রস্তুতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। এতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বিলম্বিত হয়। সরকার এ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
নৃশংস হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে ক্ষোভ
গত ১৯ মে সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। প্রথমে প্রধান আসামির স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে সে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানা গেছে।
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।






