বান্দরবানে ভূমি সেবা মেলার সফল সমাপ্তি

ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনায় বাড়ছে মানুষের আস্থা, মিলেছে হয়রানিমুক্ত সেবার অভিজ্ঞতা
বান্দরবান প্রতিনিধি: “জনবান্ধব স্বয়ংক্রিয় ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলা সফলভাবে শেষ হয়েছে। মেলার মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষ সরাসরি ডিজিটাল ভূমি সেবার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, যা ভূমি ব্যবস্থাপনায় জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেলার পর্দা নামে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার পিপিএম (বার), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস. এম. মনজুরুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু সালেহ মো. আরমান ভূঁইয়া, রাজপুত্র চসিং প্রু বনি, বিভিন্ন মৌজার হেডম্যান, কারবারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সমাপনী বক্তব্যে সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী বলেন, বর্তমান সরকার ভূমি সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালু করেছে। ঘরে বসেই এখন মানুষ ই-নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, খতিয়ান সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারছেন। এর ফলে সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি দালালনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনলাইন খতিয়ান, ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ, ই-নামজারি, অনলাইন আবেদন গ্রহণ এবং কম্পিউটারভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থাপনা ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি ভূমি জরিপে জিআইএস, স্যাটেলাইট মানচিত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে তথ্য সংগ্রহ আরও নির্ভুল হচ্ছে।
গত ১৯ মে শুরু হওয়া মেলায় স্থাপিত বিভিন্ন স্টলে সাধারণ মানুষ ই-নামজারির আবেদন, অনলাইন খাজনা নিবন্ধন, খতিয়ানের সত্যায়িত অনুলিপি, মৌজা মানচিত্র এবং ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণের চেক গ্রহণের সুযোগ পান। এছাড়া ভূমি বিষয়ক অভিযোগ ও তথ্যসেবা গ্রহণে হটলাইন ১৬১২২ ব্যবহারের পদ্ধতিও জানানো হয়।
মেলায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, গণশুনানি, আলোচনা সভা, স্টল পরিদর্শন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন ছিল দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
সমাপনী পর্বে ভূমি সেবা বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
আয়োজকদের মতে, এ আয়োজনের মাধ্যমে পার্বত্য এলাকার মানুষের কাছে ডিজিটাল ভূমি সেবা আরও সহজ ও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মেলা শেষ হলেও ডিজিটাল ভূমি সেবার প্রচার ও সহায়তামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পেতে পারেন।






