ডাংগীরহাট কলেজে রহস্যজনক ভাঙচুর: অধ্যক্ষকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক

রাতের আঁধারে প্রাচীর ভাঙচুর ঘিরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি আড়ালের অভিযোগ। ডাংগীরহাট বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ে উত্তেজনা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর। 

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হারিয়ারকুঠি ইউনিয়নের ডাংগীরহাট বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ে রাতের আঁধারে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের দায়ী করা হলেও স্থানীয়দের একাংশ সরাসরি প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আড়াল করতেই পরিকল্পিতভাবে এ ভাঙচুরের ঘটনা সাজানো হয়েছে এবং বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।

এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু হলেও কাজ শুরুর পর থেকেই রহস্যজনকভাবে রাতের আঁধারে বারবার প্রাচীর ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এতে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় থেকে দৃষ্টি সরাতে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটাচ্ছেন বলে দাবি করেন অনেকে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাহারার ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও বারবার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে, অথচ কাউকে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। বিষয়টি অত্যন্ত রহস্যজনক।”

এদিকে প্রতিষ্ঠানের নৈশপ্রহরী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, তিনি একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে কর্মরত থাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। ফলে রাতে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কার্যত অরক্ষিত থাকে।

অন্যদিকে নৈশপ্রহরী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি রাতে দায়িত্ব পালন করতে এসে ভাঙচুরের ঘটনা দেখতে পান এবং বিষয়টি অধ্যক্ষকে অবহিত করেন।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ সম্পন্ন, নিরাপত্তা জোরদার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হবে।

তবে অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কিছু দুর্বৃত্ত রাতের আঁধারে প্রাচীর ভেঙে দিচ্ছে এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও প্রকৃত রহস্য কেন উদঘাটন হচ্ছে না এবং কেন কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

বারবার ভাঙচুরের ঘটনায় একদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশও হুমকির মুখে পড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।