১৪ বছরে এমন গ্রীষ্ম দেখেননি আবহাওয়াবিদরা

বৃষ্টি কমাচ্ছে তাপমাত্রা, কিন্তু বাড়ছে ভ্যাপসা গরমের যন্ত্রণা।
টুইট প্রতিবেদক: দেশজুড়ে অস্বাভাবিক আবহাওয়ার এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তাপমাত্রা আগের দুই বছরের তুলনায় কম থাকলেও মানুষের ভোগান্তি কমেনি। বরং বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে সারা দেশে তীব্র ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গত ১৪ বছরের চাকরিজীবনে এপ্রিল-মে মাসে এমন আবহাওয়া তারা আগে দেখেননি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে বারবার বৃষ্টিপাত হওয়ায় দেশের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। কিন্তু দক্ষিণা বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মানুষের শরীরের ঘাম শুকাতে পারছে না।
ফলে প্রকৃত তাপমাত্রা তুলনামূলক কম হলেও অনুভূত গরম ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
আবহাওয়াবিদ এ. কে. এম. নাজমুল হক জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে এপ্রিল-মে মাসে টানা ৩৫ দিন এবং ২০২৪ সালে ২৬ দিন তাপপ্রবাহ বয়ে গিয়েছিল।
তখন তাপমাত্রাও ছিল রেকর্ডমাত্রায় উচ্চ। কিন্তু এবার ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে সেই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ দেখা যায়নি। তবু ভ্যাপসা গরমে মানুষের দুর্ভোগ কমছে না।
আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে তাপমাত্রা কম ছিল।
আর চলতি বছরে তা আরও কমেছে। তবে বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে গরমের অনুভূতি অনেক বেশি তীব্র হয়ে উঠেছে। তার আশঙ্কা, জুন-জুলাই মাসজুড়েও এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
গত বছর মে মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ এবার এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে রাজশাহীতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনের তুলনায় কম।
রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতও হয়েছে। রাঙ্গামাটিতে সর্বোচ্চ ৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টি হয়নি।
আবহাওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবেরই ইঙ্গিত বহন করছে। মৌসুমী বায়ুর আগমনের আগেই দেশে অস্বাভাবিক আর্দ্রতা তৈরি হওয়া এবং ঘন ঘন অভ্যন্তরীণ বৃষ্টিপাত আবহাওয়ার স্বাভাবিক চরিত্র বদলে দিচ্ছে।
অন্যদিকে আবহাওয়ার এই হঠাৎ পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্যে। কখনও ঠাণ্ডা, কখনও ভ্যাপসা গরম এমন বৈরী অবস্থায় শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে ঠাণ্ডাজনিত রোগ, কাশি ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। রাজধানীর কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপও বেড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মে মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হলেও জুন-জুলাইয়ে বৃষ্টি কম হতে পারে। ফলে বর্ষা মৌসুমেও ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।






