হামলা স্থগিতে স্বস্তি, কমল তেলের দাম

ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ কমলেও হরমুজ ঘিরে শঙ্কা বহাল।

টুইট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর পরপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক শতাংশের বেশি কমে এসেছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১০ ডলারে নেমেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও কমে প্রায় ১০৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, ট্রাম্পের ঘোষণার পর তা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে এখন গভীর নজর রাখছেন বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে স্টেইট of হরমুজ ঘিরে উদ্বেগ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অঞ্চলটিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আপাতত সামরিক হামলা স্থগিত হওয়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরলেও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই আগামী দিনের জ্বালানি বাজারের গতিপ্রকৃতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।