ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বছর: পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে এক ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতি

ভাসানীর নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল গঙ্গার পানির অধিকার আন্দোলন, ৫০ বছর পরও রয়ে গেছে ফারাক্কার প্রভাবের প্রশ্ন
টুইট ডেস্ক: আজ ফারাক্কা লংমার্চ দিবস। বাংলাদেশের পানি অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭৬ সালের এই দিনে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী-এর নেতৃত্বে ভারত কর্তৃক একতরফাভাবে গঙ্গার পানি প্রত্যাহারের প্রতিবাদে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।
এটি ছিল আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে বাংলাদেশের প্রথম বড় গণআন্দোলন। লংমার্চ শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট হাইস্কুল মাঠে বিশাল জনসমাবেশে ভাষণ দেন ভাসানী। এরপর থেকেই দিনটি ‘ফারাক্কা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
১৯৭৫ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ এলাকায় ফারাক্কা বাঁধ চালু হওয়ার পর গঙ্গার পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা, মহানন্দা, পুনর্ভবা ও পাগলা নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যায়, দেখা দেয় নাব্য সংকট।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীগুলো ধীরে ধীরে শুকিয়ে গিয়ে বিস্তীর্ণ বালুচরে পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানির চাপ—দুই ধরনের সমস্যাই এখন নিয়মিত বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফারাক্কার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে শুধু নদী নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও। দেশীয় মাছ, শুশুক, ঘড়িয়ালসহ অনেক জলজ প্রাণীর সংখ্যা কমে গেছে। বাস্তুতন্ত্রেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব।
এদিকে চলতি বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ-ভারতের ১৯৯৬ সালের ৩০ বছর মেয়াদি পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ফলে ফারাক্কা ও পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ ও নদী ব্যবস্থাপনায় টেকসই পরিকল্পনা এখন সময়ের দাবি।






