নৌকার হাল ধরে স্কুল বাঁচাচ্ছেন পাহাড়ি প্রধান শিক্ষক

থানচির তিন্দুতে বেতনের টানাপোড়েনে ছুটির দিনে নৌকা চালিয়ে বিদ্যালয় টিকিয়ে রাখছেন বামং খিয়াং মিংলেন।
বান্দরবান প্রতিনিধি: পাহাড়ের দুর্গম তিন্দু ইউনিয়নে শিক্ষার আলো ধরে রাখতে অনন্য সংগ্রামের গল্প তৈরি করেছেন প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন। নিজের বেতন ও সহকর্মীদের আয়ের সংস্থান করতে ছুটির দিনে তিনি পর্যটকদের ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালান।
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি জেলা সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ৫৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। আটজন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারীর অনুমোদন থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে দুইজন শিক্ষক বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করছেন।
এমবিএ ও বিএড ডিগ্রিধারী এই শিক্ষক কলমের পাশাপাশি নৌকার হাল ধরে বিদ্যালয়টি সচল রেখেছেন। পাহাড়ের দুর্গম এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে তাঁর এই ত্যাগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সীমিত সম্পদ ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার মধ্যেও বিদ্যালয়টি টিকে আছে মূলত প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও আত্মত্যাগের কারণে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব চিত্রকে সামনে নিয়ে আসে। একদিকে একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত ত্যাগ, অন্যদিকে কাঠামোগত সংকট—এই দুইয়ের মাঝেই টিকে আছে পাহাড়ের শিক্ষার স্বপ্ন।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে গর্বের পাশাপাশি প্রশ্নও উঠেছে, একজন শিক্ষককে কেন নিজের জীবিকা টিকিয়ে রাখতে গিয়ে বিদ্যালয় রক্ষার লড়াই করতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয়টির স্থায়ী সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন পুরোপুরি শ্রেণিকক্ষে ফিরে শিক্ষার্থীদের জন্য সময় দিতে পারেন।







