যার ছিল না কেউ, তার বিয়েতে পাশে দাঁড়াল পুরো শহর

রেলস্টেশনে পাওয়া সেই শিশুর বিয়ে ঘিরে আবেগ, ভালোবাসা আর মানবিকতার অনন্য গল্প
টুইট ডেস্ক: মাত্র চার বছর বয়সে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন এর ব্যস্ত প্ল্যাটফর্মে পাওয়া গিয়েছিল ছোট্ট এক শিশুকে। পরিচয়হীন, অসহায় সেই মেয়েটির নাম রাখা হয়েছিল স্বপ্না আক্তার। দীর্ঘ ১৪ বছর পর সেই স্বপ্নাই বসলেন বিয়ের পিঁড়িতে আর তার পাশে দাঁড়ালো পুরো শহর।
বুধবার সিলেট এর শিবগঞ্জ লামাপাড়ায় অবস্থিত সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র এ অনুষ্ঠিত হয় স্বপ্নার বিয়ের আয়োজন। পরিবার না থাকলেও আয়োজনের কোথাও ছিল না কোনো শূন্যতা। ছিল সাজসজ্জা, অতিথি আপ্যায়ন, শুভেচ্ছা আর অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা।
সরেজমিনে উপস্থিতদের ভাষ্য, পুরো আয়োজন ছিল আবেগঘন। অনেকের চোখে ছিল আনন্দ আর অশ্রুর মিশেল। পরিবারহীন একটি মেয়ের জীবনের বিশেষ দিনে এত মানুষের এক হয়ে পাশে দাঁড়ানো বিরল এক দৃশ্যে পরিণত হয়।
বিয়ে উপলক্ষে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও বিশিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা স্বপ্নার নামে সঞ্চয় হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র থেকে শুরু করে অতিথি আপ্যায়নের ব্যবস্থাও করা হয়।
সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়ার পর স্বপ্নাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরে জানা যায়, তার বাবা-মা কেউই বেঁচে নেই। এরপর সেখানেই তার বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং নতুন জীবনের প্রস্তুতি। ২০২৫ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এস. এম. মোক্তার হোসেন জানান, স্বপ্নার সম্মতি নিয়েই তার ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সুচিত্রা রায় এবং মো. আব্দুর রফিক–সহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা।
স্বপ্না আক্তারের গল্প শুধু একটি বিয়ের আয়োজন নয়, এটি সমাজের মানবিক মুখেরও এক উজ্জ্বল উদাহরণ যেখানে রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ মানুষকে এক পরিবারে পরিণত করতে পারে।






