দেশজুড়ে আরও ৫ দিন বৃষ্টির শঙ্কা

উত্তরাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত।
টুইট প্রতিবেদক: পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে দেশের প্রায় সব অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের প্রবণতা আগামী শনিবার পর্যন্ত চলতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত থাকায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বর্ষণ হতে পারে। এর ফলে সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে সাময়িক জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও রয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিকে অতি ভারী বর্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
বুধবার কুড়িগ্রামের রাজাহাটে সর্বোচ্চ ১৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় একই দিনে ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এদিকে যশোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি বয়ে যেতে পারে।
এসব এলাকার নদীবন্দরকে দুই নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে; সেসব নদীবন্দরকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে।
এর বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকায় বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবেই উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে।
বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। পাশাপাশি দেশের অন্যত্রও দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভাগগুলোতে ভারী বর্ষণের ঝুঁকি অব্যাহত থাকতে পারে।
তবে আগামী ১৭ মে থেকে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ একে এম নাজমুল হক।
তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা উপকূলে সৃষ্ট লঘুচাপের সরাসরি কোনো প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়ার সম্ভাবনা নেই।






