স্বর্ণে লাগাম টানতে ভারতের বড় শুল্ক বৃদ্ধি

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা ও আমদানি কমাতেই কঠোর সিদ্ধান্ত

টুইট প্রতিবেদক: স্বর্ণ ও রূপার আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে ভারত। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো এবং মূল্যবান ধাতুর আমদানি নিয়ন্ত্রণে আনতেই বুধবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারত সরকার স্বর্ণ ও রূপা আমদানির ওপর ১০ শতাংশ মৌলিক শুল্ক এবং ৫ শতাংশ কৃষি অবকাঠামো ও উন্নয়ন কর আরোপ করেছে। ফলে কার্যকর আমদানি কর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ শতাংশে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মূল্যবান ধাতু ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে ভারতে এ সিদ্ধান্ত স্বর্ণ ও রূপার চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং দুর্বল রুপির ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। যদিও উচ্চ শুল্কের কারণে আবারও চোরাচালান বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সম্পাদক সুরেন্দ্র মেহতা বলেন, চলতি হিসাবের ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই সরকার শুল্ক বাড়িয়েছে। তবে ইতোমধ্যে স্বর্ণ ও রূপার দাম অনেক বেশি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত বাজারের চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারত তার স্বর্ণের চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। সম্প্রতি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জনগণকে এক বছরের জন্য স্বর্ণ কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমে।

গত এক বছরে শেয়ারবাজারে দুর্বল রিটার্ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে ভারতে বিনিয়োগমুখী স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। গত মাসে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল জানায়, চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকে ভারতের গোল্ড এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে প্রবাহ বছরে ১৮৬ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ২০ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে।

বুলিয়ন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভারত সরকার সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে স্বর্ণ আমদানি কমাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্বর্ণ ও রূপা আমদানির ওপর ৩ শতাংশ সমন্বিত পণ্য ও পরিষেবা কর (আইজিএসটি) আরোপ করা হয়। এতে ব্যাংকগুলো এক মাসের বেশি সময় আমদানি কার্যক্রম বন্ধ রাখে এবং এপ্রিল মাসে আমদানি প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

মুম্বাইভিত্তিক এক বুলিয়ন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নতুন শুল্ক বৃদ্ধির ফলে অবৈধ বাজার আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। কারণ বর্তমান দামে চোরাকারবারিরা উল্লেখযোগ্য মুনাফার সুযোগ পাবে।