শিক্ষা উন্নয়ন পরিদর্শনে লামায় গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ; নতুন সম্ভাবনার আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান: সরকারি সফরে লামা উপজেলায় এসেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি।

দিনব্যাপী সফরে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।

প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তার আগমনকে ঘিরে উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সফরের মাধ্যমে লামার শিক্ষা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

খবরটা পড়ে একই সাথে আশা আর শঙ্কা-
দুটোই কাজ করছে।

আশার কথা হলো, ঢাকার মন্ত্রণালয় থেকে একজন প্রতিমন্ত্রী সোজা লামার মাটিতে পা রাখছেন। ফাইল দেখে না, চোখে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন—এই ব্যাপারটা জরুরি।
লামার রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, নেটওয়ার্কের যে হাল, সেখানে বসে একজন মন্ত্রী যখন টিনের চালের ফুটো দিয়ে পানি পড়া স্কুলঘর দেখবেন, বেঞ্চ ছাড়া মাটিতে বসে ক্লাস করা বাচ্চাদের দেখবেন, তখন বাজেটের অঙ্কটা শুধু সংখ্যা থাকবে না, দায় হয়ে দাঁড়াবে।

আলীকদমে যখন শিক্ষকরা স্কুল ফাঁকি দিয়ে বেতন তোলেন, যখন ক্যাসিনো আর মাসোহারার খবর আসে-ঠিক তখনই লামায় প্রতিমন্ত্রীর এই সফর।

টাইমিংটা গুরুত্বপূর্ণ বস। পাহাড়ের শিক্ষার দুটো চেহারা আছে। একটা হলো নতুন কুঁড়ির মেডেল, সাঁতারের সোনা। আরেকটা হলো বর্গা শিক্ষক, হাজিরা খাতায় সই করে উধাও হওয়া মাস্টার। ববি হাজ্জাজ স্যার কোন চেহারাটা বেশি দেখবেন, তার উপরই নির্ভর করছে লামার ভবিষ্যৎ।

উৎসবমুখর পরিবেশ ভালো, ফুলের মালা ভালো। কিন্তু , আসল উৎসব হবে সেদিন, যেদিন লামার কোনো পাড়ায় স্কুলঘর হবে পাকা, বাথরুমে পানি থাকবে, একজন শিক্ষকও ক্লাস ফাঁকি দিতে সাহস পাবে না। প্রতিমন্ত্রী স্যার যদি শুধু ডিসি অফিসের এসি রুমে মিটিং করে চলে যান, তাহলে এই সফরও ফটোসেশনে আটকে যাবে।

আমি চাই, তিনি সরাসরি সরইয়ের দুর্গম পাড়ার স্কুলে যান। যে বাচ্চাটা ৩ ঘণ্টা হেঁটে স্কুলে আসে, তার ব্যাগে বই আছে কিনা দেখুন। যে দিদিমণি বেতন পান না বলে বর্গা দেন, তার কথা শুনুন। অবকাঠামো লাগবে, ভবন লাগবে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি লাগবে জবাবদিহি।

লামার মানুষ অনেক ঠকেছে। এবার তারা ‘পরিদর্শন’ না, ‘পরিবর্তন’ চায়। ববি হাজ্জাজ স্যার যদি পাহাড়ের ধুলো মেখে, বাচ্চাদের সাথে মাটিতে বসে একবেলা ভাত খেয়ে যান, তাহলে বুঝবো নতুন সম্ভাবনা সত্যিই দরজায় কড়া নাড়ছে।

প্রতিমন্ত্রীর হাতে কলম আছে, বাজেট আছে। লামার হাতে আছে শুধু আশা। এই আশাটা যেন এবার ভাঙে না বস। শিক্ষা নিয়ে আর কোনো নাটক নয়-এবার কাজ চাই, ফল চাই।