আলীকদমে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি ও বর্গা শিক্ষক চর্চায় ব্যবস্থা

১৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা, তদন্তে অনিয়মের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান: বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং ‘বর্গা শিক্ষক’ দিয়ে ক্লাস চালানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ১৩ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও বেতন তুলছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে অন্য ব্যক্তিকে দিয়ে ক্লাস করানো হচ্ছে। একজন শিক্ষক আরিফ বিল্লাহ স্বীকার করেছেন, ঈদের পর একবার বিদ্যালয়ে গিয়ে পরদিন চলে এসেছেন।
এছাড়া রাংলাই দাংলিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুক্যএ মংয়ের বিরুদ্ধে অনলাইন ক্যাসিনোতে আসক্তির অভিযোগও উঠেছে, যা সহকর্মীদের মধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু শিক্ষক ও প্রশাসনিক পর্যায়ের লোকজনের যোগসাজশে অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চললেও তা এতদিন ধামাচাপা পড়ে ছিল।
মংচিং হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আবচার বলেন, নিয়মিত যারা দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের ভাবমূর্তি এসব অনিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুল আলম জানান, অনুপস্থিত থেকে বেতন নেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে বেতন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, “বর্গা শিক্ষক ব্যবহারের সত্যতা পাওয়া গেছে। ১৩ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আরও তদন্ত চলবে।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন, শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়—বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি, হঠাৎ পরিদর্শন এবং ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।
পার্বত্য এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে এসব অনিয়ম দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন তারা।






