প্রান্তিক লেকে শেষ হলো নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস

সাঁতারের ফাইনালে ঝলসে উঠল পাহাড়ি তরুণদের সম্ভাবনা

টুইট ডেস্ক: বান্দরবানে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-এর বান্দরবান পর্ব। রবিবার (১০ মে) প্রান্তিক লেকে অনুষ্ঠিত সাঁতার প্রতিযোগিতার ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পর্দা নামে এ আয়োজনের।

প্রতিযোগিতায় বালক ও বালিকাদের ১০০ মিটার বুক সাঁতার, চিৎ সাঁতার, মুক্ত সাঁতার এবং প্রজাপতি সাঁতার অনুষ্ঠিত হয়। বালকদের বুক সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন হন বান্দরবান সদরের রাও ম্রো এবং চিৎ সাঁতারে প্রথম স্থান অর্জন করেন রুমার প্রেননৈই ম্রো। অন্যদিকে বালিকাদের বুক সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন হন বান্দরবান সদরের সংলত ম্রো এবং প্রজাপতি সাঁতারে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন ছংমুন ম্রো।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু তালেব। এ সময় সহকারী কমিশনার মো. আতিকুর রহমান, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, কোচ রাহুল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠক উপস্থিত ছিলেন।

গত ২ মে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় বান্দরবান পৌরসভা ও জেলার সাত উপজেলার শত শত ক্ষুদে খেলোয়াড় আটটি ইভেন্টে অংশ নেয়। আয়োজকরা জানান, পাহাড়ি অঞ্চলের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভা খুঁজে বের করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

ক্রীড়াসংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই সাঁতারের দক্ষতা রয়েছে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, পুষ্টি ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এসব প্রতিভা জাতীয় পর্যায়েও সাফল্য বয়ে আনতে পারে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পাহাড়ি ঝিরি ও প্রাকৃতিক জলাধারে বেড়ে ওঠা শিশুদের অনেকেই আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই অসাধারণ দক্ষতা দেখাচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে পারলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কেবল একটি প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পাহাড়ি অঞ্চলের ক্রীড়া বিকাশের টেকসই ভিত্তি হয়ে উঠবে।