যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে ইসরাইলি হামলা

বিমান ও ড্রোন হামলায় আরও ৩৯ নিহত, বাড়ছে সীমান্ত উত্তেজনা
টুইট ডেস্ক: যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেও লেবাননে ইসরাইলি হামলা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটে। সীমান্তজুড়ে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও সামরিক তৎপরতার মধ্যেই নতুন করে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের সাকসাকিয়েহ শহরে। সেখানে বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
এ ছাড়া নাবাতিয়েহ এলাকায় মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো পৃথক এক হামলায় এক সিরীয় নাগরিক ও তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে নিহত হন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের দাবি, প্রথম হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। পরে চিকিৎসা নেওয়ার সময় ড্রোন হামলায় মেয়েটির মৃত্যু হয়।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী হামলার কথা স্বীকার করে জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সদস্য ও তাদের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বেসামরিক হতাহতের তথ্য তাদের নজরে এসেছে বলেও জানিয়েছে তারা।
ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ‘নির্ভুল অস্ত্র’ ও আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে দেশজুড়ে নারী ও শিশুসহ ১২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক এবং কতজন সশস্ত্র যোদ্ধা-তা আলাদা করে প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল রয়ে গেছে।






