আগাম বৃষ্টিতে চা খাতে স্বস্তি

উৎপাদন বাড়ার আশা, রপ্তানি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
টুইট প্রতিবেদক: দেশের চা শিল্পে আবারও আশার আলো দেখাচ্ছে আগাম বৃষ্টিপাত। গত দুই মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলেও চলতি মৌসুমের শুরুতেই অনুকূল আবহাওয়া ও উৎপাদন বৃদ্ধির ইঙ্গিতে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বাগান মালিক, নিলামকারী ও সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দুই লাখ ৫৮ হাজার কেজি বেশি চা উৎপাদন হয়েছে। এপ্রিলের শেষদিকে চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার ও পঞ্চগড়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় বাগানগুলোতে নতুন কুঁড়ি আসা শুরু হয়েছে। এতে চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি বছরে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি। তবে গত বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৮১ লাখ কেজি কম উৎপাদন হয়েছিল। এর আগের বছরও একই পরিস্থিতি দেখা দেয়। টানা দুই বছর উৎপাদন ঘাটতিতে দেশের চা শিল্পে উদ্বেগ তৈরি হলেও এবার আগাম বৃষ্টি সেই শঙ্কা অনেকটাই কমিয়েছে।
চা বোর্ডের পরিসংখ্যান বলছে, দেশে বর্তমানে বছরে ১০ কোটি কেজির বেশি চায়ের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন ঘাটতির কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে রপ্তানিও কমে গেছে। ২০২৫ সালে মাত্র ১৬ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা বিদেশে রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
এদিকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ টি অকশন সেন্টারে চলতি মৌসুমের প্রথম দুই নিলামে চায়ের বিক্রি সন্তোষজনক হয়েছে। প্রথম নিলামে প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় নিলামে ৯০ শতাংশ চা বিক্রি হয়েছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় ভালো দামও মিলছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
চা খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি। অবৈধভাবে অকশনবহির্ভূত চা বিক্রির কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এতে বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।
ইস্পাহানী টি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ও টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শাহ মঈনুদ্দিন হাসান বলেন, আগাম বৃষ্টির কারণে ফলনের সম্ভাবনা ভালো। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবং অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণ না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা চাপের মধ্যে রয়েছেন।
বাংলাদেশ চা বোর্ড জানিয়েছে, উৎপাদন ও গুণগত মান বাড়াতে জৈব সার, ভার্মিকম্পোস্ট এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন এলাকায় চা আবাদ সম্প্রসারণেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে উৎপাদন ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বাজার শৃঙ্খলা ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।






