চার শত পেরিয়েও আক্ষেপ বাংলাদেশের

নাজমুলের সেঞ্চুরি, মুমিনুল,মুশফিকের লড়াই; শেষদিকে আব্বাসের আঘাতে ৪১৩ রানে থামল টাইগাররা।

টুইট প্রতিবেদক: মিরপুর টেস্টে দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানেই থেমে গেল বাংলাদেশ।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর অনবদ্য সেঞ্চুরি, মুমিনুল হকের নান্দনিক ব্যাটিং এবং মুশফিকুর রহিমের দায়িত্বশীল ইনিংসে বড় সংগ্রহের ভিত গড়েছিল স্বাগতিকরা। তবে দ্বিতীয় দিনের সকালে মোহাম্মদ আব্বাসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্রুত উইকেট হারিয়ে আরও বড় সংগ্রহের সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ।

শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১১৭ দশমিক ১ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৪১৩ রান তোলে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার আব্বাস, নিয়েছেন ৫ উইকেট।

প্রথম দিনের ৩০১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। উইকেটে ছিলেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। সকালে দুজন মিলে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বড় জুটি হয়নি। লিটন ৩৩ রান করে ফিরলে চাপ বাড়ে বাংলাদেশের ওপর।

জন্মদিনে শতকের আশা জাগিয়েছিলেন মুশফিক। ধৈর্য আর অভিজ্ঞতায় ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এই অভিজ্ঞ ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ১৭৯ বলে ৭১ রান করে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বোল্ড হন। তাঁর বিদায়ের পর দ্রুত ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের নিম্নক্রম।

এর আগে প্রথম দিনে বাংলাদেশের ভিত গড়ে দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। তৃতীয় উইকেটে দুজনের ১৭০ রানের জুটি ম্যাচে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। শান্ত ১৩০ বলে ১০১ রান করেন, যেখানে ছিল ১২টি চার ও ২টি ছক্কা। অন্যদিকে মুমিনুল আক্ষেপ নিয়ে ফিরেছেন ৯১ রানে।

শেষদিকে তাসকিন আহমেদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে চার শ পেরোয় বাংলাদেশ। ১৯ বলে ২৮ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন এই পেসার। শেষ উইকেটে নাহিদ রানাকে নিয়ে ২৯ রানের জুটি গড়ে দলকে সম্মানজনক সংগ্রহ এনে দেন তিনি।

পাকিস্তানের হয়ে আব্বাস ৩৪ ওভারে ৯২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন। শাহিন আফ্রিদি নেন ৩ উইকেট।

বাংলাদেশ বড় সংগ্রহ গড়লেও উইকেটের আচরণ এবং শেষ সেশনের ধস এখন কিছুটা আক্ষেপই বাড়াবে স্বাগতিকদের। তবে মিরপুরের ধীরগতির উইকেটে ৪১৩ রান এখনও ম্যাচে শক্ত অবস্থান এনে দিয়েছে বাংলাদেশকে।