গলাকাটা লাশ উদ্ধার

সিদ্ধিরগঞ্জে তালাবদ্ধ ঘর থেকে পোশাক শ্রমিকের মরদেহ, স্বামী পলাতক।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে তালাবদ্ধ ভাড়া বাসা থেকে এক নারী পোশাক শ্রমিকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বামী ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক বিরোধ কিংবা পরিকল্পিত হত্যার আশঙ্কা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের পূর্ব নিমাইকাশারী এলাকার মামা-ভাগিনা গলির একটি বাড়ি থেকে বর্ষা আক্তার (২০) নামের ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। স্বামী মামুন ওরফে রুবেলের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই থেকে তিন দিন আগে বর্ষার সঙ্গে পরিবারের সর্বশেষ কথা হয়। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। একই সময়ে বাসার বাইরে তালা ঝুলতে দেখলেও প্রথমদিকে কেউ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। বুধবার সন্ধ্যায় ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা বর্ষার পরিবার ও পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় মুখ ও পা বাঁধা অবস্থায় বর্ষার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।

এ ঘটনায় নিহতের মা সুলতানা বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক স্বামী মামুনকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

এদিকে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।