পদ নিয়ে ক্ষোভ, লাইভে কাঁদলেন ছাত্রদল নেতা

নওগাঁ ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে বিতর্ক, সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনা

টুইট ডেস্ক: নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর পদবঞ্চনার অভিযোগে ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বক্তব্য দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন ছাত্রদল নেতা শহিদুল ইসলাম সোহাগ।

সম্প্রতি ঘোষিত নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের ৯ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটিতে তাঁকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হলেও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। লাইভে এসে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, মামলা ও কারাভোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য দেন, যা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সোহাগ দাবি করেন, দলের দুঃসময়ে তিনি সবসময় রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে এবং ৪৭ দিন কারাভোগও করতে হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তাঁর দুই ভাই গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেন বলেও উল্লেখ করেন।

ফেসবুক লাইভে শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “ত্যাগের কোনো মূল্য নেই। এখন মামা-চাচা বা অর্থনৈতিক শক্তি থাকলেই পদ পাওয়া যায়।”

এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। নওগাঁর একাংশ নেতাকর্মীর অভিযোগ, যোগ্যতা ও ত্যাগের চেয়ে বর্তমানে ব্যক্তিগত প্রভাব ও আর্থিক সক্ষমতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ত্যাগী কর্মীদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভবিষ্যতে সাংগঠনিক কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে ছাত্রদলের একাংশের দাবি, বিতর্ক এড়াতে নতুন কমিটি পুনর্বিবেচনা করে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে মূল্যায়ন করা উচিত।

ঘটনাটি নওগাঁর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। এখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।