ভারত ছিটকে শীর্ষ পাঁচের বাইরে

টুইট প্রতিবেদক: মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও পরিসংখ্যান সংশোধনে ধাক্কা, তবে ২০২৭-এর মধ্যেই ঘুরে দাঁড়ানোর আশা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের

বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির শীর্ষ পাঁচ থেকে ছিটকে ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে ভারত। সর্বশেষ এপ্রিল ২০২৬ পূর্বাভাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এ তথ্য জানিয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিনের অবস্থান হারিয়ে দেশটি এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি।

আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২০২৬ সালে প্রায় ১২৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে সবচেয়ে বড় অংশ ধরে রেখেছে। প্রায় ৩২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনও শীর্ষে, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন (২০ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার)।

তালিকার তৃতীয় থেকে পঞ্চম স্থানে যথাক্রমে জার্মানি, জাপান এবং যুক্তরাজ্য অবস্থান করছে।

এই তিন দেশের তুলনায় পিছিয়ে পড়ে ভারত এখন ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছে, যার অর্থনীতির আকার প্রায় ৪ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভারতের এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে মুদ্রার বিনিময় হার ও জিডিপি হিসাবের নতুন ভিত্তি নির্ধারণ।

গত এক বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে, যা আন্তর্জাতিক তুলনায় দেশের অর্থনীতির আকারকে ছোট করে দেখিয়েছে।

এছাড়া দেশটি ২০২২-২৩ সালকে নতুন ভিত্তি বছর ধরে জিডিপি হিসাব পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে।

এতে আগের পরিসংখ্যানে যে ৩ থেকে ৪ শতাংশ বেশি প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছিল, তা সংশোধন করা হয়েছে। ফলস্বরূপ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অর্থনীতির আকারও পুনর্মূল্যায়ন করে কমিয়ে ধরা হয়েছে।

তবে সাময়িক এই পতনকে দীর্ঘমেয়াদি সংকট হিসেবে দেখছে না আইএমএফ। সংস্থাটির পূর্বাভাস বলছে, দ্রুত প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ভারত ২০২৭ সালের মধ্যেই জাপান ও যুক্তরাজ্যকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি ২০৩১ সালের মধ্যে জার্মানিকে পেছনে ফেলে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ভারতের বাজার আকার, জনসংখ্যা এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতে দেশটিকে আবারও শীর্ষ সারিতে ফিরিয়ে আনতে পারে।

তবে এজন্য মুদ্রার স্থিতিশীলতা ও পরিসংখ্যানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।