চীনকে পাশে চায় বিএনপি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও তিস্তা প্রকল্পে জোরালো সহযোগিতা প্রত্যাশা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের।
টুইট ডেস্ক: রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আঞ্চলিক শক্তি চীনের সক্রিয় ভূমিকা চেয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে বিএনপি।
দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেইজিংয়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে কার্যকর সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার বেইজিং–এ পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি চীনের উপরাষ্ট্রপতি হান ঝেং এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং–এর সঙ্গে আলোচনা করেন।
বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে পারস্পরিক আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, একটি বৈশ্বিক মানবিক সংকট।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীনের ধারাবাহিক সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের অংশীদারিত্ব উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা তুলে ধরে উভয় পক্ষই বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও সফর বিনিময়ের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা এগিয়েছে।
এ সময় এক-চীন নীতির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন বিএনপি মহাসচিব। পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
নগর ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ও পানি শোধন প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং হালকা শিল্প খাতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহ প্রকাশ করে বিএনপি। প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও জনস্বাস্থ্য খাতেও সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
চীনা পক্ষ বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা হবে। একইসঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথ উন্নয়নের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আঞ্চলিক ভূরাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সংকট ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।






