সীমান্তে গুলিতে প্রাণ গেল রতির

 

সীমান্তে গুলিতে প্রাণ গেল রতির

ঝিনাইদহের মহেশপুরে অবৈধ পারাপারের সময় গুলিবিদ্ধ,চার দিন পর ইছামতি নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার, ময়নাতদন্তে মিলবে প্রকৃত কারণ।

টুইট প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে গুলিতে এক বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত রতি জয়ধরের মরদেহ চার দিন পর ইছামতি নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে নদীর কচুরিপানার নিচে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, মরদেহটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নদীর প্রায় ১০ গজ ভেতরে পাওয়া যায়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠায়।

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, মরদেহটি তিন থেকে চার দিন আগের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পানিতে থাকায় দেহটি ফুলে ওঠে এবং আংশিক বিকৃত হয়ে যায়। দেহ তল্লাশির সময় পাওয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহের ঘাড়, পাঁজর ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা গুলির আঘাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা রতি জয়ধরের পরিবার কয়েক মাস আগে ভারতে চলে যায়।

সম্প্রতি জমি-ঘর বিক্রি করে স্থায়ীভাবে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই তার জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই রনজিত জয়ধর বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবার।

রতি জয়ধরের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সীমান্তে এ ধরনের প্রাণহানির পুনরাবৃত্তি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।