খুলনায় হাসান হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

পাইকগাছার আলোচিত হত্যাকাণ্ডে র্যাবের অভিযান, এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি আটক।
টুইট প্রতিবেদক: খুলনার পাইকগাছায় যুবক হাসান সরদার হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. নাজমুল হুদা মিন্টুকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। আলোচিত এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত এক নম্বর পলাতক আসামি ছিলেন।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে র্যাব-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা সদর থানার খানজাহান আলী রোডে অবস্থিত একটি মোটরসাইকেল শোরুমে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই নাজমুল হুদা মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৭ জুন সন্ধ্যায় পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের চাঁদখালী গরুর হাট এলাকায় হাসান সরদারকে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় মারধরের অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দোকানের পাশে প্রসাব করাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে ফোন পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
রাত ৮টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসানকে নসিমনযোগে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, নিহত হাসান সরদারের বিরুদ্ধে মাদক বেচাকেনা ও সেবন, চুরি, ছিনতাই, হাটে আগত মানুষকে হয়রানি এবং নারী উত্যক্তসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। এসব কারণে তার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ বিদ্যমান ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় বা স্বতন্ত্র যাচাইয়ের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
সোমবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের গ্রামের বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা আব্দুল মালেক সরদার বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে পাইকগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।






