চৌগাছা ‘গুলিকাণ্ড’: অভিযোগ গঠনে ২০ এপ্রিল

শিবিরের দুই নেতার পায়ে গুলি মামলায় সাবেক এসপিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর দ্বারপ্রান্তে; ‘বন্দুকযুদ্ধ নাটক’ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক।
টুইট ডেস্ক: যশোরের চৌগাছায় ২০১৬ সালের আলোচিত ‘পায়ে গুলি’ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২০ এপ্রিল দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
অপর সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ। এদিন গ্রেপ্তার থাকা তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার আসামিদের মধ্যে বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন চৌগাছা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও জহরুল হক।
পলাতকদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এসপি আনিসুর রহমানসহ থানার তৎকালীন কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, ঘটনাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে না।
তাদের ভাষ্য, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা, ধারাবাহিকতা ও পরিকল্পিত হামলার উপাদান থাকতে হয়,যা এই ঘটনায় অনুপস্থিত।
ফলে এ মামলা ট্রাইব্যুনালে চলতে পারে না বলেও তারা যুক্তি দেন।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম পাল্টা যুক্তিতে বলেন, নির্দিষ্ট সময়পর্বে সারাদেশে একই ধরণের অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যা একটি বিস্তৃত ও পরিকল্পিত আক্রমণের অংশ।
চৌগাছার ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অন্তর্ভুক্ত বলে তিনি দাবি করেন এবং দ্রুত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন জানান।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চৌগাছা এলাকা থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতা রুহুল আমিন ও ইসরাফিলকে আটক করে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, তাদের আদালতে হাজির না করে টানা দুই দিন নির্যাতন করা হয়।
পরবর্তীতে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ দেখাতে তাদের পায়ে গুলি করা হয় এবং ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গুরুতর সংক্রমণ সৃষ্টি হলে পরে দুই ভুক্তভোগীর পা কেটে ফেলতে হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়।
আগামী ২০ এপ্রিলের শুনানিতে অভিযোগ গঠন হলে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারপর্বে প্রবেশ করবে, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে আলোচিত একটি অধ্যায়ের দিকে নতুন মোড় নিতে পারে।





