যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সেতুবন্ধনে পাকিস্তান সক্রিয়

গোপন কূটনীতিতে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা, ৪৫ দিনের মধ্যে নতুন আলোচনা বা যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত।

টুইট প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস কমিয়ে আস্থার পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে পাকিস্তান।

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগকে সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দোহা-ভিত্তিক কূটনৈতিক সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানি প্রতিনিধিরা উভয় পক্ষের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরছে এবং পারস্পরিক মতপার্থক্য কমানোর লক্ষ্যে একাধিক পর্যায়ে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ায় সামরিক ও বেসামরিক উভয় স্তরের কূটনৈতিক চ্যানেল সক্রিয় রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংলাপের পথ দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চিত থাকায় তৃতীয় পক্ষ

হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য ও নিরাপত্তা বিবেচনায় ইসলামাবাদের এই মধ্যস্থতা কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব এ উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা মনে করছে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মতো বিরোধপূর্ণ পক্ষগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসই অঞ্চলে স্থিতিশীলতার প্রধান বাধা।

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, চলমান গোপন কূটনীতির মাধ্যমে শিগগিরই দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু হতে পারে।

পাশাপাশি বিদ্যমান উত্তেজনা কমাতে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও পাঁচ সপ্তাহ বা প্রায় ৪৫ দিন বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সংবেদনশীল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সাধারণত প্রকাশ্য আলোচনার বাইরে পরিচালিত হয় এবং এর মূল ভিত্তি থাকে পারস্পরিক আস্থা।

সেই জায়গাটিই পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে পাকিস্তান।বর্তমান প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়েই প্রকাশ্যে একে অপরের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করলেও, আড়ালে সংলাপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন করে সংলাপের দ্বার খুলবে কি না,সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।