চিকিৎসা সরঞ্জাম শিল্পে বড় বিনিয়োগের সুযোগ দেখছে সরকার

আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় শিল্প গড়ে তুলতে বেসরকারি বিনিয়োগে কর ছাড়সহ বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে সরকার।

টুইট প্রতিবেদক: ওষুধ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পর এবার চিকিৎসা সরঞ্জাম শিল্পেও স্বনির্ভর হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ। দেশের চিকিৎসা সরঞ্জামের বাজারে ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা থাকলেও খাতটি এখনো অনেকাংশে আমদানিনির্ভর। এই বিপুল বাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ৩০তম মার্কিন বাণিজ্য মেলার দ্বিতীয় দিনের এক সেমিনারে এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, দেশের মোট ওষুধের চাহিদার ৯৫ শতাংশের বেশি এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। ওষুধশিল্পের এই সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনেও দেশীয় শিল্পের ভিত্তি শক্তিশালী করা সম্ভব। বিপুল বাজার থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে আমদানিনির্ভরতা কমানো এখন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কর ছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে এ খাতকে সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির গুরুত্

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ এবং ঢাকার মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে তিন দিনব্যাপী এই বাণিজ্য মেলার আয়োজন করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য, সেবা ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

মেলার দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসা সহজলভ্য করা এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর অংশীদারত্ব, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ

মেলার দ্বিতীয় দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে বিশেষ সেমিনার। এতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বিনিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সেমিনারে ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী সিমিন রহমান, ওমেরা পেট্রোলিয়ামের প্রধান নির্বাহী তানজিম চৌধুরী এবং পিডব্লিউসি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং পার্টনার শামস জামান অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ পরিবেশ, সরকারি সহায়তা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান প্রণোদনাও আলোচনায় উঠে আসে।

বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় গুরুত্ব

মেলায় অংশ নেওয়া মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আধুনিক পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

গত ৫ নভেম্বর শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ৩০তম মার্কিন বাণিজ্য মেলা ৭ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা। শেষ দিনে পারস্পরিক বাণিজ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়ে দুটি সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা বাড়াতে শুধু কর ছাড় নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল, গবেষণা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করা সম্ভব।